চৌমুহনী মদন মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ বিলে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

ছবি: আগামীর সময়
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চৌমুহনী মদন মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন খাতে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গঠিত ম্যানেজিং কমিটি ও সাময়িক বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক মো. মাহবুবুর রশীদ তারেক বিদ্যালয়টিকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছিলেন বলে দাবি করেছেন বর্তমান পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও চৌমুহনী পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক জহির উদ্দিন হারুন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
সভাপতির ভাষ্য, সাবেক সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরণ ও পরিচালনা কমিটির তৎকালীন সভাপতি সিরাজুল ইসলাম স্বপনের যোগসাজশে বিদ্যালয়ের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, বিগত কমিটির সময় এক মাসে বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ বিল ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আসত, যা বিদ্যুৎ বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের সহায়তায় লুটপাটের একটি কৌশল ছিল বলে তারা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন।
জহির উদ্দিন হারুন আরও অভিযোগ করেন, বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক নিয়মিত পাঠদান না করে বিকেল ৩টার পর বিদ্যালয়ে আসতেন এবং গভীর রাত পর্যন্ত পরিচালনা কমিটির পছন্দের লোকজন নিয়ে নানাবিধ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকতেন। ভর্তি বাণিজ্য, এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণে শিক্ষকরা দীর্ঘদিন বেতন বঞ্চিত ছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর আমূল পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আগে যেখানে বিদ্যুৎ বিল লাখ টাকায় পৌঁছাত, এখন তা কমে মাত্র ১০ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। বর্তমানে নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে এবং শিক্ষকরা সময়মতো বেতন পাচ্ছেন। বিদ্যালয়ের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় সংসদ সদস্য বরকত উল্লা বুলু ও প্রশাসনের সহযোগিতায় বহুতল ভবন নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
সাময়িক বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক মো. মাহবুবুর রশীদ তারেক তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তাকে মিথ্যা ও ধোঁয়াশাপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার মতে, কয়েকজন শিক্ষক বর্তমান সভাপতিকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরণ ও সিরাজুল ইসলাম স্বপনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কায়েসুর রহমান জানান, বিষয়টি তার নজরে আসলে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপিত হলে তিনি বিস্তারিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠের আর্থিক অনিয়ম খতিয়ে দেখতে স্থানীয় সুধীসমাজ ও অভিভাবকরা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।



