ভারতে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে ঢাবিতে বিক্ষোভ

সংগৃহীত ছবি
ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, হামলা ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ‘প্রটেস্ট এগেইন্সট কিলিং অব ইন্ডিয়ান মাইনোরিটিজ’ ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলন।
শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। এতে বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকেরা অংশ নেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলনের সদস্য সচিব আলামিন আটিয়া বলেছেন, ‘সম্প্রতি ভারতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর দেশটিতে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, বাড়িঘর ভাঙচুর, হামলা এবং প্রাণহানির নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ঘটনাগুলো গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। মানবিক মর্যাদা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে এসব ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার পরিপন্থী।’
তিনি অভিযোগ করেন, জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও সীমান্তমুখী চাপ প্রয়োগের মতো ঘটনাও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ সময় তিনি ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরের আহ্বানের অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এসব বক্তব্য মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কর্মসূচি থেকে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি ভারতীয় হাইকমিশনকে তলব করে উত্থাপিত ঘটনাগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চাওয়ার দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
বক্তারা জাতিসংঘ, ওআইসি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, কূটনৈতিক সম্প্রদায় ও বিশ্বব্যাপী শান্তিকামী মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বললেন, নির্যাতিত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।



