সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে না পারায় শপথ গ্রহণ হচ্ছে না বিজয়ের

সংগৃহীত ছবি
যেন তীরে এসে তরি ডুবল দক্ষিণী তারকা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া থালাপতি বিজয়ের। একইসঙ্গে ঝুলে আছে তার দল তামিলগা ভেট্টি কাজাগামের (টিভিকে) ভাগ্যও। রাজ্যপাল আর.ভি. আরলেকারের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার দুই সম্ভাব্য সহযোগী— আইইউএমএল এবং এএমএমকে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা বিজয়কে সমর্থন করবে না।
সরকার গঠনের জন্য রাজ্যপাল অন্তত ১১৮ বিধায়কের লিখিত সমর্থনের যে শর্ত দিয়েছিলেন, বিজয় তা পূরণ করতে পারেননি।
রাজ্যপাল দপ্তর জানিয়েছে, ১১৮ বিধায়কের সমর্থন প্রমাণ করতে না পারায় বিজয়কে আগামীকাল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ২৩৪ আসনের বিধানসভায় এটিই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগার।
ভিসিকে, এএমএমকে এবং আইইউএমএলের এক বিধায়ককে দলে টানার ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েও প্রয়োজনীয় সমর্থন যোগাড় করতে পারেননি বিজয়। বর্তমানে তার দলে আছে ১০৬ বিধায়কের সমর্থন।
পরবর্তীতে আইইউএমএল একটি চিঠি জারি করে জানায়, তারা টিভিকের নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ নয়। অন্যদিকে, টিটিভি দিনাকরণের এএমএমকে রাজ্যপালকে চিঠি লিখে জানিয়েছে, এআইএডিএমকেকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া উচিত। যা বিজয়ের আশায় জল ঢেলে দিয়েছে।
এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই কংগ্রেস তাদের তামিলনাড়ুর ৫ বিধায়ককে হায়দ্রাবাদে নিয়ে গিয়ে নিরাপদ স্থানে রেখেছে।
তবে টিভিকে বিধায়ক মেরি উইলসন এখনো আশাবাদী। শনিবার বিজয়ই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বলে বিশ্বাস তার। তিনি বলেছেন, ‘টিভিকে প্রধান বিজয় কেবল আগামী ৫ বছরের জন্য নয়, ভবিষ্যতের জন্যও মুখ্যমন্ত্রী হবেন... তাদের (সহযোগীদের) অনেক আগেই সমর্থন দেওয়া উচিত ছিল। তবুও দিনশেষে আমরা সকল জোট সঙ্গীদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আজ রাতেই ভালো খবর পাওয়া যাবে।’
বিজয় সন্ধ্যায় রাজ্যপাল আরলেকারের সঙ্গে দেখা করে ১১৮ বিধায়কের সমর্থন আছে দাবি করেছেন। এই মর্মে সরকার গঠনের আবেদনও জানিয়েছিলেন তিনি।
এবারের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্য পায় বিজয়ের দল টিভিকে। নিজের প্রথম নির্বাচনেই ২৩৪টির মধ্যে ১০৮টি আসন জিতে তারা ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের ৬২ বছরের আধিপত্য ভেঙে দেয়। কিন্তু রাজ্যপাল আরলেকার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ ছাড়া তিনি বিজয়কে আমন্ত্রণ জানাবেন না।
বুধবার এবং বৃহস্পতিবার— দুই দিনে দুটি বৈঠক হলেও রাজ্যপাল নিজের অবস্থানে অনড়। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ১১৮ বিধায়কের সমর্থন ছাড়া কেবল ১১৩ জনকে নিয়ে তিনি সরকার চালাতে দেবেন না। প্রত্যেক বিধায়কের লিখিত সমর্থন পত্রও চেয়েছেন তিনি।
কংগ্রেস তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র ডিএমকের সঙ্গ ত্যাগ করে বিজয়কে ৫টি আসনের সমর্থন দিলেও শর্ত জুড়ে দিয়েছে টিভিকে কোনো ‘সাম্প্রদায়িক দলের’ (বিজেপি) সঙ্গে হাত মেলাতে পারবে না। তিনবার একসঙ্গে নির্বাচনের জেতার পর ডিএমকে-কংগ্রেসের এই বিচ্ছেদ তামিল রাজনীতিতে এক তিক্ত অধ্যায়ের সূচনা করেছে। উভয় দলই একে অপরের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ তুলছে।
বিজয় বর্তমানে ভিসিকে, সিপিআই(এম) এবং সিপিআইয়ের সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই তিনটি দলও আগে ডিএমকে জোটে ছিল এবং বিকল্প উপায়ে ক্ষমতায় আসার জন্য এম.কে. স্ট্যালিনের দলের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে। এমনকি অনেকে একে ‘অশুভ আঁতাত’ বললেও তারা স্ট্যালিনের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এআইএডিএমকের সঙ্গেও হাত মেলানোর কথা ভাবছে।
এছাড়া বিজয় আইইউএমএলের একজন এবং টিটিভি দিনাকরণের এএমএমকের একমাত্র বিধায়কের সমর্থনও পাওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিলেন।



