শরণখোলার আকাশে রহস্যময় আলোকরেখা, আতঙ্কে জনমনে গুঞ্জন

ছবি: আগামীর সময়
বাগেরহাটের উপকূলীয় এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় আকাশে রহস্যময় আলোকরশ্মি দেখা যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে সৃষ্টি হয় আতঙ্ক ও কৌতূহলের। অনেকেই এটিকে ইরান-ইসরাইল সংঘাতের ক্ষেপণাস্ত্র ভেবে হয়ে পড়েন আতঙ্কিত। পরে জানা যায়, এটি ভারতের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘অগ্নি-৫’-এর পরীক্ষার প্রভাব।
শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে সুন্দরবনসংলগ্ন শরণখোলার আকাশে দেখা যায় উজ্জ্বল আলোকরেখাটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ধূমকেতুর মতো দ্রুতগতির ওই আলোকরশ্মি আকাশে আঁকাবাঁকা রেখা তৈরি করে যাচ্ছিল এগিয়ে। প্রায় এক থেকে দেড় মিনিট পর সেটি ধীরে ধীরে যায় মিলিয়ে।
পূর্ব সুন্দরবনের দুবলার চর এলাকায় কর্মরত বনরক্ষী তানভীর হাসান ইমরান জানালেন, আকাশে আলোর রেখাটি দেখে তিনি ধারণ করেন ছবি ও ভিডিও। তার কাছে মনে হয়েছে, এটি যেন তাদের দিকেই আসছিল ধেয়ে। ধারণা হিসেবে তিনি এটিকে ভারতের কোনো হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হতে পারে বলে উল্লেখ করেন।
রহস্যময় এ আলোর ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত হয় ভাইরাল। পাশাপাশি নানা ধরনের গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। কেউ এটিকে ক্ষেপণাস্ত্র, কেউ আবার ধূমকেতু বলে করেন ধারণা।
শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েত উল্লেখ করেন, আকাশে অস্বাভাবিক আলো দেখে মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছিল ভয়। অনেকেই ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের সঙ্গে বিষয়টি যুক্ত করে করছিলেন আলোচনা। পরে আলোটি মিলিয়ে গেলে পরিস্থিতি হয় স্বাভাবিক।
তবে শরণখোলা উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার নেই কোনো কারণ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় ভারতের ওড়িশা উপকূলের এপিজে আবদুল কালাম দ্বীপ থেকে সফল পরীক্ষা চালানো হয় দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘অগ্নি-৫’-এর। ক্ষেপণাস্ত্রটি বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছালে এর নির্গত ধোঁয়ার ওপর সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে উজ্জ্বল ও অস্বাভাবিক আকৃতি তৈরি করে। এ কারণেই বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে স্পষ্ট দেখা গেছে দৃশ্যটি।
এর আগেও দেখা গিয়েছিল ২০২২ সালের ১৫ ডিসেম্বর শরণখোলার দক্ষিণ আকাশে একই ধরনের আলোকচ্ছটা।



