হর্ন বাজিয়ে সরতে বলায় বাস ভাঙচুর, চালককে মারধরের অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরিশালে বিএমএফ পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাসচালক রাজা মল্লিককে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাস শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সংঘর্ষ হয়। এতে এক শিক্ষার্থী আহত হন।
শুক্রবার রাতে নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসংলগ্ন কবি মুকুন্দ দাস কালীবাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে কিছু সময়ের জন্য ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহত বাসচালক রাজা মল্লিক জানান, উজিরপুরের ইচলাদী পাম্প থেকে তেল নেওয়ার পর বাস ছাড়ার সময় শাকিল নামে এক শিক্ষার্থী হেডফোন কানে দিয়ে বাসের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। জানালা দিয়ে তাকে সরে যেতে বলা হলেও তিনি সরেননি। পরে হর্ন দিলে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি বাসের ছবি তুলে বরিশালে গিয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
তিনি আরও জানান, রাতে বাসটি মুকুন্দ দাস কালীবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে ২০ থেকে ২৫ জন যুবক রড, পাইপ ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাসে উঠে হামলা চালায়। তারা তাকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয় এবং বাসটি ভাঙচুর করে।
বাসচালকের সহকারীর দাবি, ওই শিক্ষার্থী বাসে উঠতে চেয়েছিলেন। তবে দূরপাল্লার বাসে স্থানীয় যাত্রী তোলার নিয়ম না থাকায় তাকে নেওয়া হয়নি। এ কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে বাসে হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা ক্যাম্পাসের বড় ভাইদের সঙ্গে বেয়াদবি করার অভিযোগও তোলে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, বাসে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঘটনাস্থলে থাকা বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, বাস শ্রমিকরাই শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে শিক্ষার্থী কাওসার হোসেন শাকিল আহত হন।
বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেনের মন্তব্য, তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটেছে। শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করলেও পরে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।
বরিশাল মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, বাসচালক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় চালক রাজা মল্লিক এবং বিএম কলেজের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী কাওসার হোসেন শাকিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে কয়েক মাস আগে ভাড়া নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সে সময় শিক্ষার্থীদের হামলায় দেড় শতাধিক বাস ও বিভিন্ন কাউন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।



