লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলারডুবি
নিখোঁজ ২ ব্যবসায়ীর লাশ ৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার

সংগৃহীত ছবি
পটুয়াখালীর লোহালিয়া নদীতে লঞ্চের ধাক্কায় তরমুজ বোঝাই ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ দুইজনের লাশ ৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল মো. রেজাউল করিম ও মো. নাসির ফকিরের লাশ উদ্ধার করে।
মৃত রেজাউল করিম রাঙ্গাবালী উপজেলার চল লক্ষ্মী গ্রামের মো. ওয়াজেদ হাওলাদারের ছেলে। তিনি তরমুজ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। নাসির ফকির একই উপজেলার চরবেষ্টিন এলাকার আব্দুল ফকিরের ছেলে। তিনিও তরমুজ ব্যবসায় জড়িত ছিলেন।
বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে লোহালিয়া নদীতে নোঙর করা তরমুজবাহী ট্রলারটিকে ধাক্কা দেয় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ। প্রচণ্ড আঘাতে তাৎক্ষণিকভাবে ট্রলারটি ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা ছয়জন ব্যবসায়ীর মধ্যে চারজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও রেজাউল করিম ও নাসির ফকির নিখোঁজ হন।
‘খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর নদী থেকেই পাওয়া যায় নিখোঁজ দুজনের মরদেহ’, জানান পটুয়াখালী নদী ফায়ার স্টেশনের টিম লিডার মো. মজিবর রহমান।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছরের ন্যায় চলতি বছরও রাঙ্গাবালী উপজেলায় তরমুজের বাম্পার ফালন হয়েছে। অধিকাংশ চাষী ও ব্যবসায়ীরা লাভের আশায় ক্ষেত থেকে সরাসরি তরমুজ বিক্রি না করে নিজেরা ট্রলারযোগে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় রেজাউল ও নাসিরসহ অন্যরা মঙ্গলবার দুপুরে রাঙ্গাবালী থেকে তাদের ক্ষেতের তরমুজ নিয়ে ট্রলারে ঢাকায় যাচ্ছিলেন।
রাতে পটুয়াখালীর লোহালিয়া নদীর তীরে ট্রলারটি নোঙ্গর করে রাখা হয়। সেখান থেকে বুধবার সকালে তাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবার কথা। কিন্তু ভোর রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলারটি ডুবে গেলে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রলারটিতে পাঁচ শতাধিক তরমুজ ছিল, যা লোহালিয়া নদীতে ভেসে গেছে।

