চারপাশ পুড়িয়ে ৪ ঘণ্টা পর নিভল গ্যাস পাম্পের আগুন

সংগৃহীত ছবি
কক্সবাজারের কলাতলির এন আলম ফিলিং স্টেশনের আশপাশের ঘরবাড়িতে বুধবার রাত থেকে জ্বলেনি রান্নাঘরের চুলা। পুড়ে যাওয়া পাম্পের ছড়িয়ে পড়া গ্যাসে আগুন ধরে যাবে- এমন আতঙ্কে রাতেই বাড়ি ছেড়েছেন অনেকে।
পাম্প ও লাগোয়া বাড়িঘর পুড়িয়ে চারঘণ্টা পর নিভল গ্যাসের লিকেজ থেকে ধরা ভয়াবহ আগুন। দিনের আলো ফোটার পর এলাকাবাসী দেখল, পুড়ে ছাই চারপাশ।
নবনির্মিত ‘এন আলম’ ফিলিং স্টেশনে বুধবার রাত ১০টার দিকে আগুন লাগার পর ঘটে বিস্ফোরণ। পরে জানা যায়, অনুমোদন ছিল না পাম্পটির।
ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে গঠন করা হয়েছে ৫ সদস্যের কমিটি।
পাম্পে সন্ধ্যা ৭টা থেকে গ্যাস লিক শুরু হয় জানিয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ছমি উদ্দিন রাতে বলেছেন, ‛প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে গ্যাস বাতাসে মিশে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা গ্যাসে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।’
গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় রাতেই আশপাশের বাসিন্দাদের সরে যেতে নির্দেশ দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম। আশপাশে আগুন না জ্বালাতে করা হয় মাইকিং।
সন্ধ্যায় খবর পেয়েই আগুন নেভাতে যায় কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস। প্রথম দফায় আগুন নিয়ন্ত্রণের পর দ্বিতীয় পাম্পেও লাগে আগুন- জানান স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন।
‛ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস, সেনা ও বিমান বাহিনীর ৯টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের আরও একটি ইউনিটকে রিজার্ভ রাখা হয়। তবে গভীর রাতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও গ্যাস লিকেজ বন্ধ করা যায়নি’- বলেছেন মোরশেদ।
ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীর ৯ ইউনিটের ৭ ঘণ্টার চেষ্টায় বুধবার রাত ২টার দিকে আগুন এবং ১৪ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার দুটি গ্যাস ট্যাংক নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শী এরফানুল ইসলামের বরাতে জানা গেছে, রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে ঘটে বিস্ফোরণ। আগুন ধরে যায় পাম্পের কয়েকটি স্থানে, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে আশপাশের কয়েক স্থাপনায়। পুড়ে যায় পাম্পের খালি জায়গায় পার্ক করে রাখা বেশ কয়েকটি গাড়ি।
ঘটনাস্থলের আশপাশে আদর্শ গ্রাম, চন্দ্রিমা হাউজিং ও জেলখানা এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলেছেন, বিস্ফোরণের পরপরই এলাকায় দেখা দেয় চরম আতঙ্ক। গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় কলাতলী সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
মধ্যরাতে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মোরশেদ সাংবাদিকদের জানান, ফিলিং স্টেশনটির অনুমোদন ছিল না। আগুনে স্টেশন ও আশপাশের অন্তত ১০টি বাড়ি ও ২০-২৫টি গাড়ি পুড়েছে। ফিলিং স্টেশনটির মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে নেয়া হবে আইনি ব্যবস্থা।
সকালে এলাকা পরিদর্শনে গেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।
ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের পর ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান।

