চুয়াডাঙ্গা
প্রতিশ্রুতির পর প্রতিশ্রুতি, ভেঙে পড়া ব্রিজ নির্মিত হয়নি দুই বছরেও

ছবি: আগামীর সময়
চুয়াডাঙ্গায় জিকে ক্যানালের ওপর নির্মিত ব্রিজটি সম্পূর্ণ ভেঙে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। অসুস্থ রোগী নিয়ে চলাচল ও মাঠের ফসল নিয়ে প্রতিনিয়তই পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়। সাধারণ মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে প্রায় দুই থেকে তিন কিলোমিটার পথ অতিরিক্ত ঘুরে তাদের কাজ সম্পন্ন করছেন। বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরও।
স্থানীয়রা জানালেন, নতুন ব্রিজ নির্মাণে অনেকেই প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের দাবি তাদের।
৪৫ বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড উপজেলার আইলহাস ইউনিয়ানের সোনাতনপুর গ্রামে নির্মাণ করে ব্রিজটি। বেশ কয়েক বছর আগে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও চলাচল করত মানুষ ও যানবাহন। প্রায় ১০ মিটার লম্বা ব্রিজ এখন গলার কাঁটা এলাকার মানুষের কাছে।
২০২৪ সালের জুন মাসের দিকে ব্রিজটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ভাঙা ব্রিজ দিয়ে সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করায় দুর্ঘটনার শিকার হন প্রায়ই। বর্তমানে ব্রিজটির কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে প্রয়োজন ছাড়া কোথাও বের হন না এলাকার মানুষ।
আলমডাঙ্গা সোনাতনপুর গ্রামের বাসিন্দা আকিমুল ইসলাম জানালেন, এখন আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। কষ্টের কথা বলার কোনও জায়গা নেই। ছোট একটি ব্রিজের কারণে আমরা কোনও দিকে যেতে পারছি না। নতুন করে ব্রিজ নির্মাণে উদ্যোগও নেই।
আলমডাঙ্গার রহিমা খাতুন নামের এক নারীর ভাষ্য, চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা শহরে যেতে পারি না। শরীরে বাসা বাঁধছে অসুখ। কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে মৃত্যু অনিবার্য। আমরা এ থেকে রেহাই চাই।
মাঠে এখন বোরো ধানসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল। ফসল নিয়ে আছি দুশ্চিন্তায়। একদিকে শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয় ফসল বাড়ি আনতে। আমাদের জীবন থমকে গেছে, আক্ষেপ আরিফ আহমেদ নামের এক কৃষকের।
চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ জানান, আলমডাঙ্গার সোনাতনপুর গ্রামে একটি ব্রিজ ভেঙে পড়েছে। এতে এলাকার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বরাদ্দ পেলে ব্রিজটি মেরামত করা হবে। নয়তো ওখানে নতুন ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।




