বাগেরহাট
তেল পেতে ঘুরতে হচ্ছে পাম্প থেকে পাম্পে

ছবিঃ আগামীর সময়
বাগেরহাটে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও সাধারণ মানুষ। প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ছুটতে হচ্ছে চালকদের। ফলে পথে পথে আটকে পড়ছেন চালকরা, আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
ডিজেলের ঘাটতির কারণে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না চালকরা। এতে শুধু যাত্রী পরিবহনই নয়, ব্যাহত হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহও। সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে না পারায় অনেক ক্ষেত্রে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছে, অনেক যানবাহন মাঝপথেই থেমে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরেও পর্যাপ্ত জ্বালানি মিলছে না। এতে সময় যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে খরচ ও অনিশ্চয়তা।
পণ্যবাহী ট্রাক চালক মামুন শেখ বলেছেন, ‘বাগেরহাট থেকে কক্সবাজারের চকরিয়ায় পণ্য নিয়ে যাচ্ছি। এ পথে প্রায় ১১০ লিটার ডিজেল লাগে। কিন্তু কোনো পাম্পেই ১০ লিটারের বেশি দিচ্ছে না। ফলে একাধিক পাম্পে ঘুরতে হচ্ছে। এতে সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে পারছি না, অনেক সময় পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’
‘ডিজেলের সংকটে ঠিকমতো বাস চালানো যাচ্ছে না। মাঝপথে তেল নিতে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। যাত্রীরা সময়মতো পৌঁছাতে না পেরে ক্ষুব্ধ হচ্ছেন, অনেক সময় আমাদের ওপরেই রাগ ঝাড়ছেন।’-বলছিলেন বাসচালক কাসেম আলী
এদিকে জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সীমিত পরিমাণে ডিজেল সরবরাহ থাকলেও অকটেন ও পেট্রলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অল্প সরবরাহ দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় পাম্পগুলোতে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ লাইন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকেই কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাচ্ছেন না।
এনজিও কর্মী নিজামুল বলেছেন, ‘ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলাম। এখন কর্মস্থল চাঁদপুরে ফিরতে পারছি না। কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাওয়া যায় না। এই সমস্যার দ্রুত সমাধান দরকার।’
জ্বালানি সংকটের পেছনে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগও উঠেছে। জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেছেন, ‘অনেকে অতিরিক্ত তেল কিনে মজুদ করছেন বা অপ্রয়োজনে ট্যাংক পূর্ণ রাখছেন। এতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে তদারকি শুরু করেছি। অবৈধ মজুদকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিবহন খাতসহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় আরও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

