ধানের মণ ১৫০০ টাকা করতে কৃষকদের বিক্ষোভ

ছবি: আগামীর সময়
ধানের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সরকারি ধান কেনা এবং বাজারে ধলতা বন্ধসহ ৮ দফা দাবিতে রাজবাড়ীর কালুখালীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন কৃষকরা।
আজ শনিবার সকালে কালুখালী উপজেলার সাওরাইল ইউনিয়নের লাড়িবাড়ী বাজারে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির কালুখালী ও পাংশা উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন কৃষকরা।
সমাবেশে কৃষকদের দাবির মধ্যে ছিল প্রতি মণ ধানের দাম ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ, ইউনিয়ন পর্যায়ে ধান ক্রয়কেন্দ্র চালু, হাট-বাজারে খাজনার তালিকা প্রকাশ, কৃষিপণ্যে ধলতা আদায় বন্ধ এবং শস্যবীমা চালু।
পাংশা উপজেলা কৃষক সমিতির সভাপতি মো. তোফাজ্জেল হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি আব্দুস সামাদ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ধীরেন্দ্র নাথ দাস, জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মণ্ডল এবং পাংশা উপজেলা কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খাঁসহ স্থানীয় কৃষক নেতারা। বিক্ষোভে প্রায় ২ শতাধিক কৃষক অংশ নেন।
বক্তারা বলেছেন, কৃষকরা রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ফসল উৎপাদন করলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য পান না। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ বোরো ধান ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের চেয়েও কম।
তাদের অভিযোগ, সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে প্রকৃত কৃষকরা অংশ নিতে পারেন না। রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা সেখানে ধান বিক্রি করেন। তাই সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার দাবি জানান তারা।
বক্তারা জানালেন, রাজবাড়ী দেশের অন্যতম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা হলেও চাষিরা এবার বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পেঁয়াজ তোলার এক মাসের মধ্যেই পচন ধরেছে, বাজারেও বিক্রি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ‘ধলতা’র অজুহাতে অনেক বাজারে পেঁয়াজ কেনা বন্ধ রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তারা আরও জানালেন, সরকার কৃষিপণ্যে ধলতা বা শুকনা নেওয়া বন্ধের ঘোষণা দিলেও মাঠপর্যায়ে তা কার্যকর হয়নি। এ বিষয়ে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান কৃষক নেতারা।



