মানিকগঞ্জের ৩ আসন যেভাবে খোয়াল জামায়াত

ছবিঃ আগামীর সময়
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জের তিন আসনেই বিএনপির কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা। কোথাও বিএনপির দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীর দাপটে, কোথাও আবার প্রার্থী বদলানোর কারণে যথেষ্ট ভোট কুড়াতে পারেনি জোটটি।
শিবালয়, হরিরামপুর ও দৌলতপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ ১ আসনে জোটবদ্ধ হওয়ার আগেই প্রার্থী চূড়ান্ত করে জামায়াত। সেখানে মনোনয়ন দেয়া হয় ইউরো বাংলা হার্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আবু বকর সিদ্দিককে।
এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পান জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এ কবীর জিন্নাহ। আবার স্বতন্ত্র হিসেবে লড়তে নামেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী তোজাম্মেল হক তোজা।
আসটিতে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও নির্বাচনের সপ্তাহখানেক আগে জেলা বিএনপির একটি বড় অংশ কবীর জিন্নাহর পক্ষে প্রচারে নামে। আওয়ামী লীগ ও সংখ্যলঘু ভোটারদেরও বড় সমর্থন পান তিনি। তোজাম্মেল হকের অনেক সমর্থকও ভোট দেয় কবীরকে।
অন্যদিকে, আসনটিতে ১১ দলীয় জোটের মধ্যে জামায়াতের ছাড়া অন্য শরীকদের সমর্থক ছিল না খুব একটা। প্রতীক বরাদ্দের পর ধারণা ছিল, তোজার ভোট ব্যাংকের বড় অংশ যাবে ১১ দলীয় প্রার্থীর পক্ষে। তবে ভোটের হিসাব শেষ পর্যন্ত উল্টে যায়। বিএনপির বর্তমান ও বিদ্রোহী দুই নেতার ঝুলিতেই যায় বেশিরভাগ ভোট।
আসনটিতে ভোট পড়ে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪৬৩টি। এর মধ্যে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৭৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন ধানের শীষের প্রার্থী কবীর জিন্নাহ। তোজাম্মেল হক তোজা ৭৭ হাজার ৮১৮ ভোট পেয়ে ছিলেন দ্বিতীয় অবস্থানে। আর জামায়াতের প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক পান ৭১ হাজার ৩১০ ভোট।
জোট গঠনের আগে মানিকগঞ্জ-২ আসনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলামকে মনোনিত করে জামায়াত। ভোট পেতে এলাকায় নানা কার্যক্রমও শুরু করেন জাহিদুল, হয়ে ওঠেন পরিচিত। স্থানীয়রা ধরে নেন- তিনিই হবেন এমপি।
তবে জোট গঠনের পর তাকে প্রত্যাহার করে মনোনয়ন দেয়া হয় শরীক দল খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. সালাহ উদ্দিনকে। এতেই জোটের ভোটে পড়ে ভাটা। জোটের প্রার্থী হয়েও জামায়াতের ভোটারদের সমর্থন পাননি সালাহ উদ্দিন।
অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপি মাঠে নামায় সাবেক শিল্পমন্ত্রী শামসুল ইসলাম খান নয়া মিয়ার ছেলে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মইনুল ইসলাম খান শান্তকে। বিএনপির পাশাপাশি সংখ্যালঘু ও নারী ভোটারদের ব্যাপক সমর্থন পেয়ে অনায়াসে বিপুল ভোটে জয়ী হন তিনি।
সিংগাইর ,হরিরামপুর ও সদরের আংশিক অংশ নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির মঈনুল ইসলাম পান ১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৭৬ ভোট। আর খেলাফত মজলিসের সালাহ উদ্দিন পান ৮১ হাজার ৫৩১ ভোট।
একই ঘটনা ঘটে মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ-৩ আসনে। জোট হওয়ার আগে দলের সিদ্ধান্তে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিতে থাকেন জামায়াতের ঢাকা উত্তরের সহকারী পরিচালক দেলওয়ার হোসেন। তবে জোটবদ্ধ হওয়ার পর প্রার্থী বদলায় জামায়াত। আসন ছেড়ে দেয়া হয় খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাইদ নূরকে। এতে কমে যায় সমর্থন।
অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী হন সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রয়াত মন্ত্রী হারুনার রশিদ খানের মেয়ে জেলা বিএনপির আহবায়ক আফরোজা খানম রিতা। এলাকায় আগে থেকেই তিনি ছিলেন প্রভাবশালী।
১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে এখন সংসদের পথে আফরোজা। আর খেলাফত মজলিসের সাইদ নূর পান ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট। জামায়াত জোটের হাতছাড়া হয় এই আসনও।

