ফয়সালকে গ্রেপ্তার করে অন্যদের আড়াল নয়: হাদির বোন

সংগৃহীত ছবি
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন গ্রেপ্তার হয়েছেন ভারতে। দেশটির সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, হাদিকে হত্যার পর পালিয়ে ভারত যাওয়ার কথা তারা স্বীকার করেছেন। দুই আসামিকে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক চ্যানেলে কাজও শুরু হয়েছে।
আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের আড়াই মাস পর যখন এই অগ্রগতি, তখন হাদির বোন মাসুমা হাদি জানালেন, কেবল ফয়সালকে গ্রেপ্তারে সন্তুষ্ট নয় পরিবার। ঘটনার পেছনে থাকা ‘মূল খুনিদের’ বিচার দেখতে চান তারা।
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার খাসমহল এলাকায় নিজ বাড়িতে একটি সংবাদমাধ্যমে ফয়সালকে গ্রেপ্তারের প্রতিক্রিয়া জানান হাদির বোন।
‘ফয়সাল একজন শুটার। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এতে আমরা কিছুটা আশাবাদী যে তার বিচার হবে... তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও কারা জড়িত, ফয়সালকে কে নির্দেশ দিয়েছে, কে অর্থ জুগিয়েছে এবং কারা তাকে জেল থেকে জামিনে বের করতে সহায়তা করেছে এসব বিষয়ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ করা প্রয়োজন’- দাবি মাসুমার।
ন্যায়বিচার কেবল ফয়সালকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে আসবে না বলে মত মাসুমার।
‘পুরো গ্যাং যেন সামনে আসে এবং জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হয়। শুধু ফয়সাল যেন বলির পাঁঠা না হয়। ফয়সালের ফাঁসি দিয়ে অন্যদের আড়াল করা হলে তা কখনোই ন্যায়বিচার হবে না।’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই জানাচ্ছে, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও ভারতে অবস্থানের জন্য বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাদিকে হত্যা এবং ভারতে পালিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে।
জুলাই অভ্যুত্থান ও পরে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পান ওসমান হাদি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দিয়েছিলেন নির্বাচনে দাঁড়ানোর ঘোষণা। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করা হয়।
প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। দুইদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে। গত ১৮ ডিসেম্বর আসে তার মৃত্যুর খবর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে সমাহিত করা হয়েছে হাদিকে।
গুলির ঘটনার দুইদিন পর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের হত্যাচেষ্টার মামলা করেন, যা পরে হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়। ডিবি পুলিশের তদন্তে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি দেওয়া হয় অভিযোগপত্র। আসামিদের মধ্যে আছেন প্রধান অভিযুক্ত ফয়সালের মা-বাবা-স্ত্রী-শ্যালক ও বান্ধবী।
ডিবির দেয়া অভিযোগপত্র নিয়ে গত ১৫ জানুয়ারি অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি দাখিল করেন মামলার বাদি জাবের। আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিল, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই’ হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নির্বাচনকে ‘বাধাগ্রস্ত করতে’ এবং ভোটারদের মধ্যে ‘ভয়ভীতি তৈরি করতে’ আসামি ফয়সাল ও তার সহযোগীরা হাদির নির্বাচনী প্রচারে অনুপ্রবেশ করে।
হাদির গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটিতে। নেছারাবাদ কামিল মাদ্রাসায় পড়া শেষে তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
ইংরেজি শেখার কোচিং সেন্টার সাইফুরস-এ শিক্ষকতা করেছিলেন ওসমান হাদি।
তাকে গুলির করার পর থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বিচারের দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ-সমাবেশ করে ইনকিলাব মঞ্চ।

