আগামীর সময়

কুমিল্লায় ঘোষণা দিয়েও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেনি সওজ, জনমনে প্রশ্ন

কুমিল্লায় ঘোষণা দিয়েও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেনি সওজ, জনমনে প্রশ্ন

ছবিঃ আগামীর সময়

দেশের অন্যতম বৃহৎ কাঁচামালের পাইকারি বাজার কুমিল্লার নিমসার। সেখানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ঘিরে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছিল সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। তবে শেষ পর্যন্ত সেই ঘোষণা থেকে সরে দাঁড়াল সওজ। আজ বুধবার (১ এপ্রিল) এই অভিযান পরিচালনা করার কথা ছিল।

এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পাশাপাশি দখলদারদের সতর্ক করে মাইকিংও করা হয়। অনেকেই বিষয়টি খুব একটা আমলে না নিলেও উচ্ছেদ আতঙ্কে গতকাল মঙ্গলবার রাতে দোকান সরিয়ে নেন কিছু ব্যবসায়ী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযানটি আর হয়নি। কেন হয়নি তা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। সওজের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর মেলেনি, কেবল জনবল সংকটের অজুহাত দেখানো ছাড়া।

ঘোষণা দিয়েও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা না করার বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কুমিল্লা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা জনবল সংকটের কথা জানিয়েছেন। তবে তিনি জানান, অচিরেই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতেও একবার উচ্ছেদ অভিযানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেবারও সওজ কর্তৃপক্ষ পিছু হটে যাওয়ায় অবৈধ স্থাপনা বহাল থেকে যায়।

বুধবার সরেজমিন দেখা গেছে, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার এলাকায় পাইকারী বাজার ঘিরে মহাসড়কের দুই পাশে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা দাঁড়িয়ে আছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুড়িচং উপজেলা প্রশাসন ও নিজস্ব মালিকানাধীন জায়গার বাইরে মহাসড়কের দুই পাশে সড়ক ও জনপথের বিশাল জায়গাজুড়ে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা কয়েক শত ভাসমান দোকান ঘর নির্মাণ করে বছরের পর বছর ভাড়া আদায় করছে। প্রতিদিন সারাদেশ থেকে ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ সবজি ও ফলমূলসহ নানান কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য নিয়ে আসেন এই বাজারে।

যার ফলে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন ধরণের যানবাহনের ভিড় জমে যায়। অনেক গাড়ি চালক সময় বাঁচাতে উল্টো পথে আড়ৎগুলোর সামনে অবস্থান নেয়। এছাড়া সড়কের ওপর বাঁ পাশে গাড়ি রেখে অন্য গাড়িতে মালামাল লোড-আনলোড করে।

এতে ঢাকা-চট্টগ্রামের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এই মহাসড়কের নিমসার বাজার এলাকায় থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনাও ঘটে প্রায়ই। এমনকি বুধবার সকালে অর্থাৎ স্থগিত হওয়া অভিযান শুরুর আগে নিমসার এলাকায় একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে দুজন নিহত হন। তারা হলেন নোয়াখালীর জহিরুল ইসলাম ও মেহেরপুর জেলার সোহেল রানা।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় গত ১৫ মার্চ কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বাক্ষরিত একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ১ এপ্রিল নিমসার বাজারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়া হয়। ৩০ মার্চ বাজার এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে মাইকিং করে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়। এর পর গুটি কয়েক ব্যবসায়ী দোকান সরিয়ে নিলেও বেশিরভাগই যার যার জায়গায় রয়ে যায়।

এর মধ্যে অভিযোগ পাওয়া গেছে, বাজারে উচ্ছেদ অভিযান না করার জন্য দখলদার চক্র সওজ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। গত বছরও একইভাবে নোটিশ করার পরও উচ্ছেদ অভিযান না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ধরে নেন এবারও সেরকমই ঘটবে। ফলে গতকাল অভিযান না হওয়ায় কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা রকম প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গতকাল সকালে বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী উচ্ছেদ অভিযানের সংবাদ সংগ্রহের জন্য নিমসার বাজার এলাকায় এসে দুপুর ১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। কিন্তু উচ্ছেদ অভিযান না হওয়ায় তারা সেখান থেকে চলে যান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর হোসেন বলেছেন, নিমসার বাজারে উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। সড়ক বিভাগ জানতে পারে, কারণ এটি তাদের জায়গা। তারা আমাকে বিষয়টি অবহিত করেনি। আমাকে অবহিত করা হলে আমি আইন-শৃঙ্খলার বিষয়ে অবশ্যই সহযোগিতা করব।’

    শেয়ার করুন: