আগামীর সময়

৩ দিন রাতেও উড়ছে জাতীয় পতাকা, ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা

৩ দিন রাতেও উড়ছে জাতীয় পতাকা, ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা

ছবিঃ আগামীর সময়

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক। শিলাইদহ ইউনিয়নের ৯৩ নম্বর কল্যাণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টানা তিন দিন ধরে দিন-রাত জাতীয় পতাকা উত্তোলিত অবস্থায় রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। পুরো চত্বর ছিল ফাঁকা ও নীরব। তবে স্কুল ভবনের সামনে পতাকাদণ্ডে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা উড়ছিল। পতাকাটি অর্ধনমিত অবস্থায় দেখা যায়।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদ হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানিয়েছেন, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। এরপর থেকে সেটি আর নামানো হয়নি। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসেও পতাকাটি যথাযথ নিয়মে ব্যবস্থাপনা করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ে কোনো দপ্তরি না থাকায় তিনিই পতাকা উত্তোলন ও নামানোর দায়িত্ব পালন করেন। ২৬ মার্চ সকালে পতাকা উত্তোলনের পর তিনি আর বিদ্যালয়ে যেতে পারেননি। ২৫ মার্চও তিনি নিজেই পতাকা উত্তোলন করেছিলেন।

পতাকা অর্ধনমিত থাকার বিষয়ে তিনি বলেছেন, হয়তো কোনো শিশু এটি করেছে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ সংসদ কমিটির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নাসির উদ্দিন বলেছেন, ‘৩০ লাখ শহীদ ও তিন লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই জাতীয় পতাকার এমন অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুম মনিরা বলেছেন, জাতীয় পতাকা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উত্তোলনের নিয়ম রয়েছে। তিন দিন ধরে পতাকা নামানো না হওয়া গুরুতর অনিয়ম। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে শোকজ করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার জানান, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা বাড়ছে। জাতীয় পতাকার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এমন অবহেলা ভবিষ্যতে যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।

    শেয়ার করুন: