আগামীর সময়

ঈদে প্রস্তুত প্রকৃতির স্বর্গরাজ্য নাটোর উত্তরা গণভবন ও গ্রিনভ্যালি পার্ক

ঈদে প্রস্তুত প্রকৃতির স্বর্গরাজ্য নাটোর উত্তরা গণভবন ও গ্রিনভ্যালি পার্ক

ছবিঃ আগামীর সময়

ঈদে দর্শনার্থীদের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে প্রকৃতির স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত নাটোরের উত্তরা গণভবন ও গ্রীনভ্যালি পার্ক। প্রকৃতির নির্মল বাতাস এবং মনোমুগ্ধকর পরিবেশ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে নিরাপত্তার বেষ্টনী। পর্যটন কেন্দ্রে পুলিশ, আনসার ও বিশেষ সিভিল সিকিউরিটি সদস্যরা নিরাপত্তার কাজে সর্বক্ষণ দায়িত্বে থাকবেন।

নাটোরে প্রাচীন ইতিহাসের স্থাপত্যকলার অন্যতম নিদর্শন এবং ঢাকার বাইরে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় বাসভবন হিসেবে খ্যাত উত্তরা গণভবন। ৪১ একর জমির ওপর বিস্তৃত এই বিশাল প্রাসাদের চারপাশে মনোরম লেক এবং ছোট-বড় ১২টি কারুকার্যখচিত ও দৃষ্টিনন্দন ভবন রয়েছে। গণভবনের ভিতরে আছে দিঘী, বাগান, ইটালিয়ান গার্ডেন, চিড়িয়াখানা, নতুন সংগ্রহশালা এবং পাখিদের অভয়াশ্রমসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বাহারী রকমের গাছপালা। পুরো গণভবনের চারপাশ উঁচু দেওয়াল দ্বারা বেষ্টিত। গণভবনে প্রবেশদ্বারে রয়েছে বিশাল এক ফটক। ভিতরে রয়েছে বিভিন্ন দেশ থেকে আনা হরেক রকমের বাহারী ফুল ও ঔষধি গাছ। গণভবনে ঢুকলেই যেন পর্যটকদের ফুলের সৌন্দর্য ও সুবাস দিয়ে অভ্যর্থনা জানায়।

এ গণভবন প্রাঙ্গণে আছে ইতালি থেকে সংগৃহীত মনোরম ভাস্কর্যে সজ্জিত বাগান। এখানে রয়েছে বিরল প্রজাতির নানা উদ্ভিদ, যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। যেন ভ্রমণপ্রিয় মানুষের কাছে এটি এক ‘স্বর্গরাজ্য’। শুধু তাই নয়, ঈদে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কর্তৃপক্ষ গণভবনে প্রবেশদ্বারে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। এ নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত সিভিল সিকিউরিটি সদস্যও নিয়োগ করা হয়েছে, যেন পর্যটকরা পরিবার ও প্রিয়জন নিয়ে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াতে পারেন।

দেশের জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্রের মধ্যে পরিচিতি লাভ করেছে নাটোরের লালপুরে অবস্থিত গ্রিনভ্যালি পার্ক। প্রকৃতির মাঝে আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র এটি, প্রায় ১২৩ বিঘা জমির ওপর নির্মিত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং আধুনিক রাইডের এক অপূর্ব সমন্বয় রয়েছে। পার্কের ভেতরে প্রায় ৩০ একর জুড়ে বিস্তৃত একটি বিশাল নয়নাভিরাম লেক, যেখানে পর্যটকরা স্পিডবোট বা প্যাডেল বোটে সময় কাটাতে পারেন। শিশুদের জন্য রয়েছে বিশেষ জোন। মিনি ট্রেন, বুলেট ট্রেন, নাগরদোলা, ম্যারি-গো-রাউন্ড, পাইরেট শিপ, হানি সুইং এবং একটি চমৎকার ওয়াটার পার্ক ও সুইমিং পুল রয়েছে।

প্রতিবছর বিভিন্ন উৎসবকে ঘিরে এ পার্কে লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে। বিশেষ করে পার্কের ভিতরে নানা প্রজাতির লক্ষাধিক ফুলের গাছ দিয়ে সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে, যা দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের মুগ্ধ করবে। পর্যটকদের জন্য নিরাপদ কার পার্কিং এবং সিসিটিভি দ্বারা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার ব্যবস্থাও রয়েছে। পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৪০ থেকে ৫০ জন নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। ফলে দূর থেকে আসা পর্যটকরা পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াতে পারবেন।

গ্রিনভ্যালি পার্কের পাবলিক রিলেশন অফিসার আব্দুল মোতালেব রায়হান বললেন, ঈদ উপলক্ষে পার্কটি নতুনরূপে সাজানো হয়েছে। যেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা পরিবার ও প্রিয়জন নিয়ে সুন্দর একটি মুহূর্ত কাটাতে পারেন। ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে পার্কের ভিতরে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে লক্ষাধিক দেশি-বিদেশি মনোমুগ্ধকর ফুলের সমারোহ করা হয়েছে। এসব বিভিন্ন রঙের ফুলের গাছ দিয়ে সাজানো হয়েছে গেট, যা দর্শনার্থীদের প্রতি মুহূর্তে মুগ্ধ ও আনন্দ দেবে।

'দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারার জন্য ৩০ থেকে ৪০ জন নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়াও পুরো পার্ক সিসি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে, যা কন্ট্রোল রুম থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।' যোগ করেন তিনি।

উত্তরা গণভবনের সহকারী ব্যবস্থাপক খায়রুল বাশার জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদে দর্শনার্থীদের কথা চিন্তা করে গণভবনের সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ সমাপ্ত হয়েছে। যেহেতু শীতের ফুলের মৌসুম শেষ, তারপরও গণভবনকে নতুনভাবে চমৎকার রূপে সাজানো হয়েছে, যা দর্শনার্থী ও পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে।

ঈদের দিন থেকে গণভবনে প্রচুর দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করেন তিনি।

'দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ও আনসার সদস্য সর্বক্ষণ দায়িত্বে থাকবেন। এবারে প্রথমবারের মতো সিভিল সিকিউরিটির সদস্য রাখা হয়েছে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য, যেন দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াতে পারেন।' জানালেন তিনি।

    শেয়ার করুন: