মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা, ১৪ মাস পর কৃষক দল নেতার লাশ উত্তোলন

সংগৃহীত ছবি
লক্ষ্মীপুরে দাফনের প্রায় ১৪ মাস পর শাহাদাত হোসেন পরাশ নামে এক কৃষক দল নেতার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। হত্যার অভিযোগের মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের নির্দেশে রবিবার বেলা ১১টার দিকে পৌরসভার তেরবেকি এলাকার পারিবারিক কবরস্থান থেকে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়।
উত্তোলনের সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন ও সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার আরমান হোসেন উপস্থিত ছিলেন। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে ফের দাফন করা হবে।
নিহত পরাশ জেলা কৃষক দলের সাবেক সহসভাপতি এবং লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সমসেরাবাদ এলাকার মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ শেখ সুমন জানান, ২০২৫ সালের ৭ মার্চ চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ মোস্তানগর এলাকায় পরাশের মৃত্যু হয়। পরদিন ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার মরদেহ লক্ষ্মীপুরে এনে দাফন করা হয়। পরে তার স্ত্রী শেফালি বেগম শেপু একই বছরের ৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ দেন।
বাদী শেফালি বেগম শেপু অভিযোগ করেন, তার স্বামী ওমান প্রবাসী ছিলেন এবং ঘটনার প্রায় আট মাস আগে দেশে আসেন। একটি মাটি খনন যন্ত্র (এক্সক্যাভেটর) কেনার পরিকল্পনা ছিল তার। এ জন্য ঘটনার দিন প্রায় ১০ লাখ টাকা নিয়ে অভিযুক্ত মোহনকে সঙ্গে করে মোটরসাইকেলে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের দিকে রওনা হন। পরে জানানো হয়, তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।
তার ভাষ্য, খবর পেয়ে স্বজনরা জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশের কাছ থেকে মরদেহ উদ্ধার করেন। তখন পরাশের পেটে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে পুলিশ আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।
তিনি দাবি করেন, সঙ্গে থাকা ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পরাশকে হত্যা করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় মোহনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।



