আগামীর সময়

বরিশালে তৃণমূল আওয়ামী লীগের ইফতার, পুনর্গঠনের ঘোষণা

বরিশালে তৃণমূল আওয়ামী লীগের ইফতার, পুনর্গঠনের ঘোষণা

ছবিঃ আগামীর সময়

বরিশালে ধীরে ধীরে সংগঠিত হয়ে দলীয় কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরিবারভিত্তিক রাজনীতি থেকে বের হয়ে দলকে নতুন করে সুসংগঠিত করাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।

গত শুক্রবার বরিশাল নগরীর রজনীগন্ধা কমিউনিটি সেন্টারে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে নিজেদের অবস্থান জানান দেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রায় দেড় শতাধিক নেতাকর্মী। এতে সাবেক জনপ্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা ছাত্রলীগের একটি অংশ শনিবার থেকে নগরীতে প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

ইফতার মাহফিলে অংশ নেওয়া নেতারা জানান, দলের বর্তমান দুঃসময়ে আওয়ামী লীগকে পারিবারিক সিন্ডিকেটের বাইরে এনে পুনর্গঠন করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে নতুনভাবে সংগঠনকে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বরিশালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতাকর্মী কারামুক্ত হয়েছেন। আবার ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে থাকা অনেকেই ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস, বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, বাকসুর ভিপি মঈন তুষার, সাবেক প্যানেল মেয়র ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এনামুল হক বাহার, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ শামসুদ্দোহা আবিদ, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কেফায়েত হোসেন রনি এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আরিফুর রহমান অপুসহ অনেকে।

এদিকে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, নেতাকর্মীদের ফেলে অনেক শীর্ষ নেতা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগেই দেশ ত্যাগ করেন। আর তার ছেলে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ৫ আগস্টের পর দেশ ছাড়েন। সাদিকের নেতৃত্ব নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর মধ্যে।

ইফতার মাহফিলের নেতৃত্ব দেওয়া বরিশাল সিটির সাবেক প্যানেল মেয়র ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এনামুল হক বাহার বলেছেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছেন। সবাইকে একত্রিত করার লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়েছে। পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি থেকে বের হয়ে মহানগর আওয়ামী লীগকে নতুন করে সংগঠিত করার চেষ্টা চলছে।

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আরিফুর রহমান অপু বলেছেন, পরিবারতন্ত্র বরিশালে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নিয়ে দলকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চান তারা।

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তারেক বিন ইসলাম জানিয়েছেন, সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নিয়ে সংগঠনকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। বর্তমান পরিস্থিতিতে মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ শামসুদ্দোহা আবিদ বলেছেন, দল এখন কঠিন সময় পার করছে। সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন-সংগ্রামে এগিয়ে যেতে হবে। ভবিষ্যতে বড় পরিসরে বৈঠক ও দলীয় কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

অন্যদিকে রমজান মাসের শুরু থেকেই বরিশাল নগরীতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রাজীব হোসেন খানের অনুসারীরা। তারা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ইফতার বিতরণ, পোস্টার লাগানো এবং ৭ মার্চ বধ্যভূমিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন।

রাজীব হোসেন খান বলেছেন, দল বর্তমানে ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। সেখান থেকে দলকে সুসংগঠিত করার চেষ্টা চলছে। ক্ষমতায় থাকাকালে যেমন মানুষের পাশে ছিলেন, তেমনি এখনো বিভিন্নভাবে অসহায় মানুষের সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে শনিবার বরিশাল নগরীর মুসলিম গোরস্থানে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতাদের কবর জিয়ারত করেন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। ৫ আগস্টের পর এটিই তাদের প্রথম প্রকাশ্য কর্মসূচি বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ বলেছেন, প্রশাসনের নীরবতায় মামলার আসামিরাও প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরদারিতে আনা উচিত।

মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেছেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সুস্থ ধারার রাজনীতি করতে চাইলে তা ভালো লক্ষণ। তবে সংগঠনটি নিষিদ্ধ থাকায় তারা রাজনীতি করতে পারবে কি না, সে সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের।

মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন জানিয়েছেন, অতীতে যেসব আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন, তাদের বিচার হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক বলেছেন, যারা হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অভিযুক্ত তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। আওয়ামী লীগের কোনো অংশ পুনর্গঠিত হয়ে রাজনীতিতে ফিরতে চাইলে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

    শেয়ার করুন: