আগামীর সময়

রাজশাহী

‘সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে, কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে’

‘সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে, কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে’

ছবিঃ আগামীর সময়

রাজশাহীর সকালটা আজ যেন ছিল একটু ভিন্ন। শহরের ব্যস্ত সড়কগুলোয় গাড়ির সারি আছে ঠিকই, কিন্তু নেই সেই স্বাভাবিক গতি— জ্বালানির অভাবে থমকে আছে জীবনযাত্রার ছন্দ। বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের ঢেউ এসে লেগেছে এই উত্তরাঞ্চলীয় শহরেও, আর তারই ফল হিসেবে সোমবার সকাল থেকে রাজশাহীর অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে।

পাম্পগুলোতে ঝুলছে ‘তেল নেই’ লেখা নোটিশ, কোথাও আবার দড়ি টানিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে প্রবেশপথ। তবুও আশায় বুক বেঁধে শত শত মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার আর গণপরিবহন দাঁড়িয়ে আছে দীর্ঘ লাইনে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বেশিরভাগ চালককে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে।

রাজশাহী জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান শিমুল জানান, রবিবারেই পাম্পগুলোর মজুত শেষ হয়ে গেছে। সোমবার থেকে কার্যত জ্বালানিশূন্য পুরো নগরী। বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে কিছু তেল আনার চেষ্টা করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ অত্যন্ত কম— যেখানে একটি লরিতে সাড়ে ১৩ হাজার লিটার তেল ধারণক্ষমতা, সেখানে মিলছে মাত্র তিন হাজার লিটার।

তবে আশার কথা উল্লেখ করে তিনি বলছিলেন, রাতের মধ্যে নতুন সরবরাহ পৌঁছালে মঙ্গলবার থেকে আবার পাম্পগুলোয় তেল পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু তেল এলেই যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তা নয়— বরং আশঙ্কা আরও বড়।

মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে পাম্পগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানানো হয়েছে। তারা বলছেন, তেল বিক্রি শুরু হলে ভিড় ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে শুধু পুলিশ যথেষ্ট না-ও হতে পারে।

অপরদিকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির চিত্র আরও করুণ। ‘সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু এখনো তেল পাইনি। কাজকর্ম সব বন্ধ হয়ে যাচ্ছে’, অভিযোগ ঝরছিল পুঠিয়ার বানেশ্বর থেকে আসা মোটরসাইকেল চালক রবিউল ইসলামের।

একই হতাশা সাখাওয়াত হোসেনের কণ্ঠেও। এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরতে ঘুরতেই তার মোটরসাইকেলের ট্যাংক ফাঁকা হয়ে গেছে।

    শেয়ার করুন: