আগামীর সময়

জিকে ক্যানালের পানিতে প্রাণ ফিরছে ফসলি জমিতে

জিকে ক্যানালের পানিতে প্রাণ ফিরছে ফসলি জমিতে

ছবিঃ আগামীর সময়

চুয়াডাঙ্গায় ফসল চাষের শুরুতেই জিকে সেচ ক্যানালে পর্যাপ্ত পানি থৈথৈ করছে। সেই পানি দিয়ে বিনা খরচে চাষের সুযোগ পাওয়ায় কৃষকের মুখে খুশির ঝিলিক। এ মৌসুমে কৃষকরা বোরো ধান, ভুট্টা ও সবজি চাষ করছেন। পাশাপাশি ফলন বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত খরচ গুনতে না হওয়ায় লাভের আশা করছেন তারা।

কৃষকরা জানান, আগে পানির জন্য দুশ্চিন্তা করতে হতো। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে ডিজেল চালিত স্যালো মেশিন ব্যবহার করে পানি দিতে হতো। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সংকট থাকলেও এবারের মৌসুমে জিকে ক্যানালের পানির কারণে তারা নির্বিঘ্নে সেচ কার্য চালাতে পারছেন।

নির্দিষ্ট সময়ে কৃষকরা যথাযথ পানি পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা জিকে সেচ প্রকল্প থেকে দুটি পাম্পের মাধ্যমে পদ্মা নদী থেকে পানি ক্যানালে সরবরাহ করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলায় ক্যানাল পুরোপুরি পানি ভরে গেছে। পানি পাওয়ার পরপরই কৃষকরা বোরো ধানের জমিতে সেচ কার্য শুরু করেন। ক্যানালের পানি ব্যবহার করার ফলে ফসল সতেজ ও গাঢ় সবুজ রঙ ধারণ করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলায় জিকে ক্যানালের আওতায় প্রধান খাল ৪১ কিলোমিটার, টারসিয়ারি খাল ২৬৩ কিলোমিটার, সেকেন্ডারি খাল ৭৫ কিলোমিটার এবং মাঠনালা ২০ কিলোমিটার রয়েছে। কৃষকরা এই ক্যানালের পানি ব্যবহার করে ফসলের সেচ কার্য পরিচালনা করছেন। ক্যানালে পর্যাপ্ত পানি থাকায় মাঠের স্যালো মেশিনগুলো বন্ধ রয়েছে।

এ মৌসুমে জিকে ক্যানালের আওতায় চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গায় ৭৮০০ হেক্টর ফসলি জমি রয়েছে। সদর উপজেলায় ৬৫৫ হেক্টর এবং আলমডাঙ্গায় ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষে ক্যানালের পানি ব্যবহার হচ্ছে।

এ ছাড়া সবজি, কলা, ভুট্টা ও অন্যান্য ফসলও চাষ করা হচ্ছে। ডিজেল ও স্যালো মেশিন ব্যবহার করার ফলে আগে কৃষকদের ফসল উৎপাদন হ্রাস পেত এবং খরচ বেড়ে যেত। তবে এবারের মৌসুমে ক্যানালের পানি ব্যবহারের কারণে এসব সমস্যা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কৃষক হাসমত আলি বলেছেন, বোরো মৌসুমে স্যালো মেশিন দিয়ে পানি দিলে আমাদের ফসল ভালোভাবে পুষায় না। এবার ধান লাগানোর পর থেকেই ক্যানালে পর্যাপ্ত পানি রয়েছে। সেই পানি ব্যবহার করছি। ক্যানালের পানি ফসলে ব্যবহার করলে ফসলের রঙ গাঢ় সবুজ হয় এবং দীর্ঘ সময় জমিতে পানি থাকে।

আলমডাঙ্গা উপজেলার কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, বিনা খরচে ধানসহ অন্যান্য ফসলের পানি দিতে পারছেন। মেশিন ভাড়া, ডিজেল এবং অন্যান্য খরচ অনেক কমে গেছে। ক্যানালের পানি আয়রন ও আর্সেনিক মুক্ত। এক বিঘা জমিতে ফসল উৎপাদনে আগে ৬-৮ টাকা খরচ হতো। নিয়মিত পানি পেলে সুবিধা আরও বাড়বে।

কৃষক নুর ইসলাম জানান, এখন ক্যানালে পানি কানায় কানায় রয়েছে। যখন ইচ্ছা তখন পানি ব্যবহার করতে পারছি। ঝামেলা মুক্তভাবে এ বছর চাষ শেষ করতে পারবো ভাবতেই পারিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেছেন, কৃষকরা যদি নির্দিষ্ট সময়ে পানি পান, তাহলে চাষে আরও বেশি লাভবান হবেন। জিকে কর্তৃপক্ষ যদি নিয়মিত পানি সরবরাহ করে, সমস্যাগুলো সহজেই সমাধান হবে। ক্যানালের আওতায় থাকা সকল কৃষক তাদের ফসলে পর্যাপ্ত পানি ব্যবহার করতে পারছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ জানান, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পাম্প হাউজের মাধ্যমে জিকে ক্যানালে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এবারের মৌসুমে কোনো ধরনের সমস্যা নেই। আমরা সর্বদা কৃষকদের পাশে থাকার চেষ্টা করি। ক্যানাল থেকে পানি সুন্দরভাবে সরবরাহ হচ্ছে।

    শেয়ার করুন: