আগামীর সময়

ঝিনাইদহ

১ কোটি ২০ লাখ টাকা জলে যাওয়ার উপক্রম

১ কোটি ২০ লাখ টাকা জলে যাওয়ার উপক্রম

ছবিঃ আগামীর সময়

ঝিনাইদহে ব্যাডমিন্টন টেবিল টেনিসের জন্য নির্মাণাধীন ইনডোর গেমস ভবনের কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে অর্থের অভাবে। প্রায় কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয় করার পরও প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি। এতে সরকারের খরচ করা অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইনডোরটি চালু না হওয়ায় ক্রীড়ামোদিরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে অসমাপ্ত ভবনটি মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ দ্রুত কাজটি সম্পন্ন করে খেলাধুলার উপযোগী করে তোলার দাবি জানিয়েছেন।

গণপূর্ত বিভাগ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সরকারি কর্মকর্তা এবং জেলার ক্রীড়ামোদী খেলোয়াড়দের জন্য ইনডোর গেমস ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। লক্ষ্যে শহরের সার্কিট হাউসের পেছনে জেলা প্রশাসনের চাহিদার ভিত্তিতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে গণপূর্ত বিভাগ প্রকল্পটি হাতে নেয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের আওতায় ৬৫ ফুট বাই ২৪০ ফুট স্টিল স্ট্রাকচারের এই ভবনের ব্যয় ধরা হয় প্রায় কোটি টাকা। গণপূর্ত বিভাগের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ার বিল্ডার্স ২০২৩ সালে নির্মাণকাজ শুরু করে।

প্রকল্পের জন্য প্রথম ধাপে কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই অর্থে ২০২২-২৩ অর্থবছরে অর্ধেকের বেশি কাজ শেষ হলেও পরবর্তী বরাদ্দ না পাওয়ায় নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বাকি প্রায় কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেলে ব্যাডমিন্টন টেবিল টেনিসের ইনডোরটি সম্পন্ন করা সম্ভব।

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী মামুন হোসেন সবুজ মিয়া বলেন, জেলায় খেলাধুলার জন্য কোনো ইনডোর সুবিধা নেই। প্রায় দুই বছর ধরে বরাদ্দের অভাবে ভবনটির কাজ বন্ধ রয়েছে। সরকার যদি দ্রুত বাকি অর্থ বরাদ্দ না দেয়, তাহলে ইতোমধ্যে ব্যয় হওয়া কোটি ২০ লাখ টাকাই অপচয় হবে।

তারা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক, জুয়া বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। অথচ নির্মাণাধীন এই ইনডোর ভবনটিই এখন মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হচ্ছে। দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।

এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে শামসুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্মিত এই ইনডোর এখন মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার পর শহরের কিছু যুবক এখানে এসে মাদক বেচাকেনা সেবন করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গণপূর্ত বিভাগ জানায়, ভবনটিতে একটি ওয়াশরুম, একটি রেস্টরুম এবং মাল্টিপারপাস ব্যবহারের সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি অর্থ বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শেষ করা হবে।

বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জেরাল্ড অলিভার গুডা বলেন, সরকার থেকে অর্থ বরাদ্দ পেলেই ঠিকাদারের মাধ্যমে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে ভবনটি হস্তান্তর করা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, বিষয়টি তৎকালীন জেলা প্রশাসকের সময়ের। বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না।

জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আমানুল্লাহ আহমেদ বলেন, ইনডোরটির কাজ বন্ধ রয়েছে বলে শুনেছি। চালু হলে জেলার ক্রীড়াপ্রেমীরা খেলাধুলার সুযোগ পাবেন এবং তরুণরা খারাপ কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ঠিকাদার মঞ্জুর পারভেজ তুষার বলেন, প্রকল্পটি সুন্দরভাবে শেষ করা সম্ভব ছিল। নতুন করে অর্থ বরাদ্দ পেলে আমরা দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে পারব। কাজ শেষ হলে সরকারি কর্মকর্তা খেলাপ্রেমীরা এখানে খেলাধুলা করতে পারবেন।


    শেয়ার করুন: