প্রতিমন্ত্রী
সরকারের কৃষকবান্ধব সিদ্ধান্তেই বাম্পার ফলন হয়েছে বোরোর

ছবি: আগামীর সময়
সরকারের কৃষকবান্ধব ও সাহসী সিদ্ধান্তের কারণেই এবার দেশে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
আজ শুক্রবার দুপুরে যশোর খাদ্যগুদামে চলতি বোরো মৌসুমে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছিল। এতে ঝুঁকির মধ্যে পড়ে বাংলাদেশও। তবে সরকারের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ও জনগণের সহযোগিতায় সেই পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি জানান, প্রয়োজনে যানবাহনের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রেখে কৃষকদের সেচের জন্য জ্বালানি নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। একইভাবে শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত হলেও কৃষকের সেচপাম্পে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ না করার নীতিতে সরকার অটল ছিল।
তার ভাষ্য, নানা সংকটের মধ্যেও কৃষকদের ধানক্ষেতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এর ফলেই এবার সারা দেশে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বোরো ধান দেশের প্রধান খাদ্যশস্য হওয়ায় এর ভালো উৎপাদন দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
কৃষিখাতে উন্নয়নের সূচনা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান করেছিলেন উল্লেখ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, সরকার কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা ভর্তুকিমূল্যে কৃষি উপকরণ কিনতে ও স্বল্প সুদে কৃষিঋণ নিতে পারবেন। পাশাপাশি সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি, উন্নতমানের বীজ, সার ও কৃষিযন্ত্র আমদানির মাধ্যমে দেশে কৃষিতে সবুজ বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই কর্মসূচিগুলো নতুনভাবে বাস্তবায়ন করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকার নির্ধারিত ধানের দাম প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, প্রতি কেজি ধানের দাম ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা কৃষকদের জন্য ভালো মূল্য। এতে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং খাদ্য অধিদপ্তরও প্রয়োজনীয় ধান ও চাল সংগ্রহ করতে পারবে। এর ফলে বাজারও স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগে কঠোর হুঁশিয়ারিও দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, কৃষকদের ওজনে ঠকানোর অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেফাউর রহমান এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেফাউর রহমান জানান, চলতি বোরো মৌসুমে যশোর জেলায় ১৫ হাজার ১৬৬ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি এই উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পাবেন।
এদিকে একই দিন দুপুরে যশোর পৌরসভার ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়ক উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিএনপির নেতারা ও পৌরসভার কর্মকর্তারা।



