পাথরঘাটা মিনি স্টেডিয়াম
বারবার নাম পরিবর্তন, লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়াও

ছবি: আগামীর সময়
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা শহরের একমাত্র খেলার মাঠ পাথরঘাটা মিনি স্টেডিয়াম। দীর্ঘদিনের অবহেলা, বারবার নাম পরিবর্তন এবং দখল সমস্যার কারণে মাঠটি এখন তার স্বাভাবিক ক্রীড়া পরিবেশ হারাচ্ছে। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা বারবার সংস্কার ও উন্নয়নের দাবি জানালেও এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে মাঠটির নাম ছিল ‘জিয়াউর রহমান মাঠ’। দীর্ঘদিন এই নামেই মাঠটি ব্যবহার হয়েছে। পরে ২০০৯ সালে নাম পরিবর্তন করে ‘পাথরঘাটা শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম’ রাখা হয়। সর্বশেষ গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে দেশের ১৫০টি স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এর নাম রাখা হয় ‘পাথরঘাটা মিনি স্টেডিয়াম’।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠে খেলাধুলা চললেও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ক্রমেই খারাপ হচ্ছে মাঠের অবস্থা। মাঠের একটি অংশ দখলে রয়েছে কাঠ ব্যবসায়ীদের। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির সময় পানি জমে থাকে। সমতল অসমান হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে খেলাধুলার প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়ে মাঠটি। নেই দর্শকদের জন্য কোনো গ্যালারিও।
স্থানীয় ক্রীড়াবিদ ও সংগঠক মো. জসিম উদ্দিন রানা জানিয়েছেন, একসময় এই মাঠে নিয়মিত ফুটবল, ক্রিকেট ও ভলিবলসহ বিভিন্ন খেলা হতো। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও তরুণরা এখানে অনুশীলন করত এবং টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হতো।
তার মতে, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, মাঠ সমতল করা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু, গ্যালারি নির্মাণ ও আলোকসজ্জা স্থাপন করা গেলে মাঠটি আবারও ক্রীড়ার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পাল আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, শিগগিরই মাঠটি পরিদর্শন করে বর্তমান সমস্যা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে উন্নয়ন কাজ শুরু করা হবে এবং মাঠটিকে আধুনিক ও খেলাধুলার উপযোগী করে তুলতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।



