১১ দিন নিখোঁজ ব্যবসায়ী, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইল পরিবার

সংগৃহীত ছবি
খুলনায় গত ১১ দিনেও নিখোঁজ ব্যবসায়ী কাজী নিজামউদ্দিন সুজনের সন্ধান পায়নি পুলিশ। নিখোঁজ ছেলের সন্ধান চেয়ে আজ মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নিকট স্মারকলিপি দিয়েছেন নিখোঁজ নিজামউদ্দিনের মা রোকসানা সোবহানসহ পরিবারের বাকি সদস্যরা।
স্মারকলিপি গ্রহণকালে জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামসেদ খোন্দকার সুজনকে উদ্ধারে পরিবারকে আশ্বস্ত করেন।
স্মারকলিপিতে মা রোকসানা সোবহান উল্লেখ করেন, গত ২১ ফেব্রুয়ারি আমার একমাত্র ছেলে ব্যবসায়ী কাজী নিজাম উদ্দিন সুজন (৩৫) তারাবির নামাজ পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুজির পর তার কোনো খোঁজ না পেয়ে সুজনের বাবা কাজী সোবহান স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এছাড়াও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করে উদ্ধারের জন্য আমরা সহযোগিতা চেয়েছি। কিন্তু গত ১১ দিনেও আমার ছেলেকে উদ্ধার করতে পারেনি। ফলে পরিবারের সকলেই উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। আমিসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছে। ৫ বছরের একমাত্র সন্তান নিয়ে সুজনের স্ত্রীও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
‘দুর্ভাগ্য যে এখনো সুজনকে উদ্ধার বা তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি’, উল্লেখ করে স্মাকলিপিতে লিখেন, আমার ছেলে সুজন কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়, কোনোদিন করেওনি। সে বাবার সব ব্যবসা-বাণিজ্য দেখাশুনা করত। আমার ছেলের বিরুদ্ধে কোনো মামলাও নেই। কারো সঙ্গে কোনো শত্রুতাও নেই। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি ছাড়া আর কোথাও সে যেতো না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খুলনার সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে আমার ছেলে রাষ্ট্রীয় পুরস্কারও পেয়েছে। এমন ছেলে কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যাওয়াটা রহস্যজনক। আজ আমি আমার ছেলের কোনো সন্ধান পাচ্ছি না। আমি এবং পরিবার আমার একমাত্র ছেলেকে উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিতি ছিলেন, নিখোঁজ নিজামউদ্দিন সুজনের স্ত্রী নাবিলা রহমান ও পাঁচ বছরের ছেলে কাজী ইয়ান, অ্যাডভোকেট সুলতানা রহমান শিল্পী, জাহিদুর রহমান ও খায়রুল হাসানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
‘জেলা প্রশাসক আমাদের আবেদন গ্রহণ করেছে’, জানিয়ে সুজনের স্ত্রী নাবিলা রহমান বলছিলেন, তিনি আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক কমিটির সভায় এ ব্যাপারে আলোচনা করবেন এবং আবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দ্রুত পাঠানের আশ্বাস দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে খুলনার থানার ওসি তদন্ত মিজানুর রহমান জানান, তদন্তে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। তাদের জিডির তদন্তে একজন সাব ইন্সপেক্টর জুয়েল রানা কাজ করছেন। তাকে এই কাজে আলাদাভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি এটি নিয়ে জোরালোভাবে কাজ করছেন।
অপরদিকে নিখোঁজ ব্যবসায়ী সুজনের সন্ধানে আলাদাভাবে কাজ করছেন পিবিআই। পিবিআইর পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বলছিলেন, আমরা সবধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি খুব তারাতারি আপনাদের ভালো খবর জানাব।

