আগামীর সময়

ডুবে যাওয়া বাস থেকে ফিরে পেলেন টাকা ও সার্টিফিকেট

ডুবে যাওয়া বাস থেকে ফিরে পেলেন টাকা ও সার্টিফিকেট

আবুল কালাম ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছিলেন। এর আগে তিনি দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে সৌহার্দ্য বাসে ওঠেন। যাবেন ঢাকা। সেখানে তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। আবুল কালাম বাসে উঠে ১০-১৫ মিনিট বসে ছিলেন।

বাসটি যখন ফেরিঘাটের কাছে, তখন অনেক যানজট। তিনি ফেরি থেকে নেমে পড়েন। এর দুই মিনিট পরে বাসটি নদীতে পড়ে ডুবে যক্সায়।

কালাম বলছিলেন, আমার সামনেই বাসটি ধীরে ধীরে নদীতে তলিয়ে যায়। তখন আমি মোবাইল বের করে ভিডিও করবো, না কী করবো বুঝতে পারছিলাম না। তখন অনেকটা হতভম্ব হয়ে পড়েন কালাম। আমার ব্যাগে ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ—মূল সার্টিফিকেট, এনআইডি, কোরিয়া যেতে প্রস্তুতি নেওয়ার কাগজপত্র ও নগদ সাড়ে ৪ হাজার টাকা।

এই ঘটনার পর ঢাকায় ফেরেননি কালাম। ব্যাগের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। অবশেষে তার ব্যাগটি বাস থেকে উদ্ধার হয়। এমন অন্তত ২৫ জন বা তার বেশি যাত্রীর ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যাগগুলো দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে। যথাযথ প্রমাণ দিলে ব্যাগ ফেরত দিচ্ছে পুলিশ।

আজ সকালে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে ব্যাগের খোঁজ পান কালাম। পুলিশের মাধ্যমে ব্যাগটি ফেরত পান তিনি। কালাম বললেন, যখন যাত্রীসহ বাস ডুবে গেল, আমি ভাবতে পারিনি ব্যাগ ফেরত পাবো। তারপরও আশা করেছিলাম, হয়তো পাবো। আমি বাসে থাকলে হয়তো আজকে মারা যেতাম।

ব্যাগের ভেতর কী কী ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, নগদ সাড়ে ৪ হাজার টাকা, মূল সার্টিফিকেট, এনআইডি কার্ড, অফিসের কাগজপত্র ও কোরিয়া যাওয়ার কাগজপত্র ছিল ব্যাগে।

ব্যাগ ফেরত পেলেও বাসে থাকা যাত্রী মারা যাওয়ার ঘটনায় কালামের মন ভারাক্রান্ত। তিনি বলেন, ‘মারা যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে আমিও থাকতে পারতাম, যদি দুই মিনিট আগে বাস থেকে না নামতাম।’

    শেয়ার করুন: