কারাবন্দী আরেক আ.লীগ নেতার মৃত্যু, এনিয়ে ৬ জন

সংগৃহীত ছবি
বগুড়া জেলা কারাগারে বন্দি থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাত ১০টায় জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন বলে জানান বগুড়া কারাগারের জেলার নুরুল মুবিন। এ নিয়ে বগুড়ায় এ পর্যন্ত কারাবন্দী হওয়া ৬ জন আওয়ামী লীগ নেতা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন।
শুক্রবার মারা যাওয়া ওই আওয়ামী লীগ নেতা বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহনুর আলম শান্ত (৫৫)। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের থেকে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।
জানা গেছে, গত ৪ জানুয়ারি স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে শহরের নারুলী কৃষি ফার্মের কাছে এলে সারিয়াকান্দির বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে আটক করে মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আসে এবং ওইদিনই বগুড়া জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক সুরাইয়া জেরিন রনির সদর থানায় দায়ের করা নাশকতা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
বগুড়া জেলা কারাগারের জেলার নুরুল মুবিন জানান, গত ৪ জানুয়ারি শাহনুর আলম শান্তকে বগুড়া কারাগারে পাঠানো হয়, পরে ১৭ জানুয়ারি বগুড়া থেকে তাকে ঢাকার কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। তবে মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কেরানীগঞ্জ জেলের ডেপুটি জেলারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।
কেরানীগঞ্জ কারাগারের ডেপুটি জেলার তায়েবা জানান, শাহনুর আলম শান্ত অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। এর আগেও দুবার অসুস্থ হলে তখনও হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর বেশি কিছু বলতে পারবো না।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার এসআই অমিত হাসান বলেন, সুরাইয়া জেরিন নামের এক বিএনপি নেত্রীর হত্যার চেষ্টা ও বিস্ফোরক মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে জেলখানায় পাঠানো হয়।
জানা গেছে, ২০১৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি ডান পা হারান। এরপর থেকে তিনি কৃত্রিম পায়ে চলাফেরা করতেন। হাটশেরপুর গ্রামের বাসিন্দা রজব আলীর ভাষ্য, শাহনুর আলম শান্ত একজন পঙ্গু ও শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করার অপরাধে তাকে এভাবে মৃত্যুবরণ করতে হল। কারা-কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও সুচিকিৎসার অভাবে তার এই অকাল মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়, বরং এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন, এমন অভিযোগ তার।
এদিকে বগুড়ায় এ পর্যন্ত কারাবন্দী হওয়া ৬ জন আওয়ামী লীগ নেতা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। যাকে ‘অস্বাভাবিক’ বলছেন দলটির নেতারা। মারা যাওয়া অপর পাঁচ জন হলেন- আওয়ামী লীগের জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত আলম ঝুনু, গাবতলী উপজেলার সহ-সভাপতি আব্দুল মতিন মিঠু, শিবগঞ্জ উপজেলার কোষাধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ, গাবতলী দক্ষিণ পাড়া ইউনিয়নের সহ-সভাপতি এমদাদুল হক ভুট্টো এবং বগুড়া ১৫ নম্বর পৌর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম রতন।

