ড্রেজার বসানোয় বিএনপি নেতাকে চোখ বেঁধে পেটানোর অভিযোগ

দেলোয়ার হোসেন
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় দেলোয়ার হোসেন নামে এক বিএনপি নেতাকে চোখ বেঁধে পেটানোর অভিযোগ ওঠেছে। বৃহস্পতিবার মজুচৌধুরীর হাট কোস্টগার্ড সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ দেলোয়ারের। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা বয়ান দিতে চাপের কথা জানান তিনি।
দেলোয়ার সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক।
তার ভাষ্য, গত সোমবার তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তিনি কোস্টগার্ড ক্যাম্প থেকে ছাড়া পান। তাকে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মজুচৌধুরীর হাটে দেলোয়ারের বালুর ব্যবসা রয়েছে। মেঘনা নদীর রহমতখালী চ্যানেলে বসানো হয়েছিল একটি ড্রেজার মেশিন। এ নিয়ে আপত্তি জানায় কোস্টগার্ড। যদিও বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদন নিয়েই ড্রেজার মেশিন বসানোর কথা জানান দেলোয়ার।
অভিযোগ উঠেছে, ড্রেজার বসানোর বিষয়টি কেন্দ্র করে দেলোয়ার এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিনকে ডেকে নেন কোস্টগার্ডের গোয়েন্দা সদস্য সোহান। তারা নিয়ম মেনে মেশিন বসিয়েছেন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যও বিষয়টি জানেন। বলার পর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন কোস্টগার্ড সদস্য সোহান। তিনি অন্য সদস্য দিয়ে দেলোয়ারকে আটক করিয়ে ক্যাম্পে নিয়ে যান।
নির্যাতনের শিকার হয়েছেন জানিয়ে দেলোয়ার বলছিলেন, ‘আমাকে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। এরপর আমাদের এমপির বিরুদ্ধে মিথ্যা বয়ান দিতে বলে। তিনি নাকি আমাদের দিয়ে বালু মহাল থেকে চাঁদাবাজি করাচ্ছে। আমি এমন বয়ান দিতে অস্বীকার করি। এরপর বেশ কয়েকবার আমার চোখ বেঁধে পায়ের তালুতে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে একটি লিখিত কাগজে আমাকে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে। ছাড়া পেয়ে আমি জেলা সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিই।’
‘আমি এবং দেলোয়ার ওই কোস্টগার্ড সদস্যের সাথে কথা বলতে গেছি। কিন্তু তিনি আমাদের সাথে ক্ষুব্ধ আচরণ করেছেন। আমাদের এমপির নামেও অশোভন মন্তব্য করেছেন। দেলোয়ারকে ক্যাম্পে নিয়ে চোখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। বিষয়টি অমানবিক’ মন্তব্য করেন সাবেক ইউপি সদস্য ও বালু ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন।
এ বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযুক্ত কোস্টগার্ড সদস্য সোহানের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি কোস্টগার্ড মিডিয়া উইংয়ের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
তবে মজুচৌধুরীর হাট কোস্টগার্ড ক্যাম্পের সিসি মাইন উদ্দিন বলছিলেন, ‘তেমন কিছু হয়নি। স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজন ছিল। দেলোয়ার এখন আমাদের বিরুদ্ধে বদনাম করার জন্য এগুলো বলছেন।’

