রংপুর
বিদ্যালয়ে এসে মৃত্যুঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

ছবি: আগামীর সময়
বিদ্যালয়ের ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। শ্রেণিকক্ষে দেখা দিয়েছে ফাটল। যেকোনো সময় ছাদ ধসে পড়ার শঙ্কা। তবুও পরিত্যক্ত এই ভবনের বারান্দায় ঝুঁকি নিয়ে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এমন ঘটনা রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার চাঁদপাড়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।
উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের বুজরুক সন্তোষপুর গ্রামে অবস্থিত চাঁদপাড়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০০২ সালে পাকা ভবন নির্মাণের পর ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হয়। দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ায় ভবনটির ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। একপর্যায়ে ছাদের বিভিন্ন অংশে ধরে ফাটল। এরপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান অব্যাহত রাখেন শিক্ষকরা।
এক বছর আগে বড় বড় ফাটল তৈরি হলে প্রধান শিক্ষক নতুন ভবন নির্মাণের আবেদন জানিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসে করেন লিখিত আবেদন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের অক্টোবরে উপজেলা শিক্ষা বিভাগ ও রংপুর থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করে বিদ্যালয় ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
বিদ্যালয়টি ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যালয়টি চার কক্ষবিশিষ্ট একটি একতলা ভবন। ভবনের একটি কক্ষ শিক্ষকদের জন্য। অন্য তিনটি শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে ভবনের বারান্দায় বেঞ্চ বসিয়ে পাঠদান চলছে। শিশু থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত সকালে এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিকালে দুই শিফটে পালাক্রমে পাঠদান করছেন শিক্ষকরা। গত কয়েক দিন টানা বৃষ্টির কারণে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির মধ্যে বারান্দায় চলছে পাঠদান কার্যক্রম।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুমতাহিনা ও সামির আলী জানায়, ‘স্কুলে আসতে খুব ভয় লাগে। কখন যে ছাদ ভেঙে পড়ে। বারান্দায় ক্লাস করতেও ভয় পাই। বজ্রপাতের সময় খুব আতঙ্কে থাকতে হয়।‘
বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষক আনজুমান জানালেন, ‘ভবনটির সব শ্রেণিকক্ষের ছাদে বড় বড় ফাটল। বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। শিশুদের রুমের ভেতরে বসিয়ে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। তাই বারান্দায় ক্লাস নিতে হচ্ছে।’
দাতা সদস্য আবু বকর সিদ্দিক আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ‘বিদ্যালয় ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় ধসে পড়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর প্রাণহানি ঘটতে পারে।’
মিঠাপুকুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র রায়ের ভাষ্য, ‘চাঁদপাড়া আদর্শ সরকারি বিদ্যালয়ে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষকরা। নতুন ভবন বরাদ্দের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে।’
কোমলমতি শিশুদের নিরাপদ স্থানে পাঠদানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।



