আগামীর সময়

দুই-তৃতীয়াংশ শেয়ার ঊর্ধ্বমুখী, তবুও সূচকে ধাক্কা

দুই-তৃতীয়াংশ শেয়ার ঊর্ধ্বমুখী, তবুও সূচকে ধাক্কা

সংগৃহীত ছবি

মঙ্গলবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দরপতনের রেকর্ড গড়ে সূচক হারায় প্রায় ২০৯ পয়েন্ট। সেই ধাক্কার রেশ ধরে বুধবার (৪ মার্চ) দিনের শুরুতে বাজারে ফের চাপ দেখা দেয়। লেনদেনের প্রথম ভাগে ডিএসইর প্রধান সূচক প্রায় ৫০ পয়েন্ট পর্যন্ত নেমে যায়।

তবে এরপর কিছু শেয়ারে ক্রয়চাপ বাড়লে পতনের ভার কমতে থাকে এবং একপর্যায়ে সূচক ৫০ পয়েন্টের বেশি ইতিবাচক অবস্থানেও উঠে আসে। কিন্তু সেই উত্থান দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বড় ও প্রভাবশালী শেয়ারে হঠাৎ সেল প্রেসার বেড়ে যাওয়ায় সূচক আবার নিম্নমুখী হয়ে পড়ে এবং শেষ বেলায় নেতিবাচক অবস্থানেই লেনদেন শেষ হয়।

যদিও সূচক লাল ঘরে শেষ হয়েছে, তবে লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর ছিল ঊর্ধ্বমুখী। তবে আগের দিনের তুলনায় এদিন লেনদেনের পরিমাণে স্পষ্ট ভাটা লক্ষ করা গেছে। বুধবার অধিকাংশ কোম্পানির দর বাড়লেও বড় মূলধনী (ব্লু-চিপ) ও সূচক-প্রভাবশালী শেয়ারের দরপতন পুরো বাজারের গতিপথ বদলে দেয়। ফলে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচকসহ সব কটি সূচক নিম্নমুখী অবস্থানে থেকে যায়।

লেনদেনের গতি ছিল মন্থর, টাকার অংকে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সীমিত অংশগ্রহণ, বড় শেয়ারে ধারাবাহিক বিক্রির চাপ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার কারণেই সূচক স্থিতিশীল হতে পারছে না।

সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের দর বাড়লেও বাজারের প্রকৃত চালিকাশক্তি যেহেতু বড় মূলধনী শেয়ার— সেগুলোর পতন সামগ্রিক সূচককে নিচের দিকেই টেনে রাখছে। ফলে সংখ্যায় সবুজের আধিক্য থাকলেও বাজারের সামগ্রিক দিকনির্দেশনা এখনো দুর্বল ও অনিশ্চিত।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বুধবার ডিএসইতে মোট ৩৯৩টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২২৭টির দর বেড়েছে, ১১২টির কমেছে এবং ৫৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের দর ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও বড় মূলধনী শেয়ারের পতনে সূচক নিম্নমুখী হয়েছে।

এদিন ডিএসইতে মোট ৫৮২ কোটি ৩৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের ৮৮৫ কোটি ১২ লাখ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। অর্থাৎ টাকার অংকে লেনদেন প্রায় ৩০০ কোটির বেশি কমেছে, যা বাজারে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। সিএসসিএক্স সূচক ৫২.৭৮ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ১৭৫.৮৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬৮.২৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ১৭.৬০ পয়েন্টে।

এছাড়া শরিয়াহ সূচক ৪.০৯ পয়েন্ট কমে ৮৯৭.১৯ পয়েন্টে এবং সিএসই-৩০ সূচক ২১.৫৫ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ৪৪৯.৩৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সিএসইতে মোট ১৭০টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮টির দর বেড়েছে, ৯৪টির কমেছে এবং ১৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিন সিএসইতে মোট ৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের ২৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার তুলনায় অনেক কম। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী প্রথম কার্যদিবস রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ডিএসইএক্স সূচক ২০০.৭২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টে উঠে গিয়েছিল।

একই দিনে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৮৪.৩৭ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৫১৮ পয়েন্টে অবস্থান করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে আবারও অস্থিরতা ফিরে এসেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।

    শেয়ার করুন: