বিলিয়ন ডলার ক্লাব
শীর্ষে মেঘনা গ্রুপ

ছবিঃ আগামীর সময়
নতুন নতুন কারখানা গড়ে
তোলার কারণে কাঁচামাল আমদানিও বেড়েছে। এ কারণে বেড়েছে
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের
আমদানি-রফতানির লেনদেন
মোস্তফা কামাল
চেয়ারম্যান, এমজিআই
আমদানি-রফতানিতে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে দেশি-বিদেশি আট গ্রুপের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজ (এমজিআই)। এই সময়ে গ্রুপটির মোট আমদানি-রফতানির পরিমাণ ২৮৮ কোটি ডলার। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসেবে স্থানীয় মুদ্রায় যা ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। বিগত অর্থবছরে মেঘনা গ্রুপ ২৩২ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। এ সময়ে গ্রুপটি রফতানি করেছে প্রায় ১৩ কোটি ডলারের পণ্য। বিপুল পরিমাণের এই আমদানি-রফতানির মাধ্যমে তারা সরকারকে কর দিয়েছে ৫ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা (৪৩ কোটি ডলার)। সব মিলিয়ে গত অর্থবছরে গ্রুপটি আমদানি-রফতানিতে লেনদেন করেছে ২৮৮ কোটি ডলার। দেশের একটি শীর্ষ গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।
বিলিয়ন ডলারের এই অভিজাত ক্লাবের তালিকায় স্থান পাওয়া বাকি সাতটি গ্রুপ হচ্ছে- প্রাণ আরএফএল, আবুল খায়ের, সিটি, টি কে, স্কয়ার, বিএসআরএম ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়াংওয়ান করপোরেশন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই গ্রুপগুলোর সবাই আমদানি-রফতানিতে বিলিয়ন ডলার বা ১০০ কোটি ডলারের বেশি লেনদেন করেছে। ওই অর্থবছরে তাদের মোট আমদানি-রফতানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৫৪ কোটি মার্কিন ডলার, যা দেশের মোট আমদানি-রফতানির ১১ শতাংশ। এসব প্রতিষ্ঠান গত অর্থবছরে সরকারকে রাজস্ব দিয়েছে ১৭ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থান হয়েছে সোয়া পাঁচ লাখ মানুষের।
প্রসঙ্গত, এই তালিকা তৈরিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রকৃত আমদানি ও রফতানি হিসাব বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে আমদানিকারকদের ঘোষিত মূল্য হিসাব করা হয়েছে। স্থানীয় আমদানি বা রফতানি এ তালিকার হিসাবে রাখা হয়নি। এবার দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদেশি শিল্প গ্রুপও তালিকায় রাখা হয়েছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, দেশের অর্থনীতির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারের নীতি সহায়তা জরুরি। এই সহায়তা পেলে সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নতুন আরও বিনিয়োগের জন্য তারা প্রস্তুত। বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিল্পায়নের বড় ভিত্তি হলো অভ্যন্তরীণ চাহিদা। বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে ভোক্তার চাহিদার ওপর নির্ভর করে আমদানি প্রতিস্থাপক কারখানা গড়ে তুলেছেন উদ্যোক্তারা, যাদের লেনদেন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। দেশীয় চাহিদা পূরণের মাধ্যমে তারা প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অর্জন করছেন। ধীরে ধীরে যাচ্ছেন আন্তর্জাতিক বাজারে। উৎপাদনমুখী খাতের উদ্যোক্তারা যাতে উন্নত বন্দর ব্যবস্থাপনা ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ পান, তা নিশ্চিত করা দরকার।
শীর্ষস্থানে এমজিআই: দেশে উৎপাদনমুখীখাতে বহু বছর ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)। বর্তমানে গ্রুপটিতে ৬৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান রয়েছে। নতুন নতুন কারখানা গড়ে তোলার কারণে কাঁচামাল আমদানিও বেড়েছে। এ কারণে আমদানি-রফতানিতে এমজিআইর লেনদেন বেড়েছে।
গত অর্থবছরে গ্রুপটি ২৩২ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। সরকারকে রাজস্ব দিয়েছে ৫ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা (৪৩ কোটি ডলার)। সব মিলিয়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানিতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় হয়েছে ২৭৫ কোটি ডলার। একই সময়ে গ্রুপটি রফতানি করেছে প্রায় ১৩ কোটি ডলারের পণ্য। সেই হিসাবে গত অর্থবছরে গ্রুপটি আমদানি-রফতানিতে লেনদেন করেছে ২৮৮ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের তুলনায় এই লেনদেন ৩ শতাংশ বেশি। মেঘনা গ্রুপ প্রতিনিয়ত কারখানা সম্প্রসারণ ও নতুন নতুন খাতে বিনিয়োগ করছে। সমুদ্রগামী জাহাজ, হেলিকপ্টারের বহর বাড়িয়েছে। ইস্পাতপণ্য রড ও গ্লাস তৈরির কারখানায় বিনিয়োগ করেছে গ্রুপটি। প্রতিবছর গ্রুপটিতে নতুন নতুন কর্মসংস্থান হচ্ছে। গ্রুপটির প্রধান ব্রান্ড ‘ফ্রেশ’।
বিশিষ্ট উদ্যোক্তা মোস্তফা কামালের হাত ধরে ৫০ বছর আগে শুরু হয় এমজিআই শিল্পগোষ্ঠীর যাত্রা। সেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৪৭ হাজার মানুষের। অস্থায়ী কর্মসংস্থান হয়েছে আরও ১৫ থেকে ১৭ হাজার মানুষের।
জানতে চাইলে এমজিআইয়ের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, নতুন নতুন কারখানা গড়ে তোলার কারণে কাঁচামাল আমদানিও বেড়েছে। এ কারণে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের আমদানি-রফতানিতে লেনদেন বেড়েছে। কারখানা সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগে স্থাপন করা কারখানায় উৎপাদন শুরু হলে কাঁচামাল আমদানি আরও বাড়বে। কর্মসংস্থানও বাড়বে।
দুই ধাপ এগিয়ে দ্বিতীয় প্রাণ আরএফএল: এক বছরের ব্যবধানে দুই ধাপ এগিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে উন্নীত হয়েছে প্রাণ আরএফএল গ্রুপ। এনবিআরের হিসাবে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৫৯ কোটি মার্কিন ডলারের লেনদেন নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে ছিল গ্রুপটি। এক বছরের ব্যবধানে ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে গ্রুপটির, তাতে লেনদেন ছাড়িয়েছে ১৯০ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে গ্রুপটির আমদানিতে ব্যয় হয় ১৪৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার। একই সময় রফতানি ছিল ৪৪ কোটি ৬১ লাখ ডলার। গ্রুপটিতে কর্মসংস্থান হয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার লোকের। তৈরি পোশাকের বাইরে বৈচিত্র্যময় পণ্য রফতানিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে গ্রুপটি। তারে রফতানির ঝুড়িতে আছে প্রায় দেড় হাজার পণ্য। রফতানি করার রেকর্ড আছে ১৪৮টি দেশে। আবার দেশীয় বাজারেও সমান পদচারণা শিল্প গ্রুপটির।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী বলেন, ‘কাঁচামাল ও বিনিয়োগের যন্ত্রপাতি আমদানি এবং বহুমুখী পণ্য রফতানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রাণআরএফএল গ্রুপের ই খাতে লেনদেন বেড়েছে। তবে আমরা যেসব খাতে ব্যবসা করি, সেখানে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এসব খাতে আরও বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে পারলে রফতানিতে আরও ভালো করতে পারব।’
ভারী শিল্প সম্প্রসারণে আবুল খায়ের গ্রুপ: দেশে ভারী শিল্পের নেতৃত্বে থাকা আবুল খায়ের গ্রুপ গত অর্থবছরে উৎপাদনক্ষমতা বাড়িয়েছে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেস কারখানার রড উৎপাদনক্ষমতা ১৮ লাখ টন বাড়িয়ে ৩০ লাখ টনে উন্নীত করা হয়েছে। রড উৎপাদনক্ষমতায় গ্রুপটি এখন শীর্ষে। রড ছাড়াও সিমেন্ট, ঢেউটিনে বাংলাদেশে ১ নম্বরে রয়েছে গ্রুপটি। এ ছাড়া গুঁড়া দুধে ১ নম্বরে, চা ও টোব্যাকোতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গ্রুপটি। স্যানিটারি পণ্য এবং নিত্যব্যবহার্য পণ্যেও গ্রুপটি ভালো ব্যবসা করছে। গত অর্থবছরে গ্রুপটি শুধু আমদানি পর্যায়ে সরকারকে রাজস্ব দিয়েছে ৩ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা (প্রায় ৩২ কোটি ৭৬ লাখ ডলার)। এই রাজস্বসহ পণ্য আমদানিতে তারে ব্যয় ১৬০ কোটি ডলার। আবার এক বছরের ব্যবধানে ৭৪ শতাংশ বেড়ে গ্রুপটির রফতানি ৭ কোটি ৫৯ লাখ ডলারে উন্নীত হয়েছে। গ্রুপটির রফতানি তালিকায় আছে খাদ্যপণ্য, তামাক, সিমেন্ট, ব্যাগ ও চা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গ্রুপটি বিলিয়ন ডলার ক্লাবের তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। গ্রুপটির আমদানি-রফতানিতে মোট লেনদেন প্রায় ১৬৮ কোটি ডলার। আবুল খায়ের গ্রুপের যাত্রা শুরু হয়েছিল শিল্পোদ্যোক্তা আবুল খায়েরের হাত ধরে। ১৯৫৩ সালে যাত্রা শুরু হওয়া এই গ্রুপকে শীর্ষে নিয়ে গেছেন আবুল খায়েরের সন্তানেরা।
বিদেশি প্রতিষ্ঠান ইয়াংওয়ানও বিলিয়ন ডলারে: উৎপাদনমুখী খাতে বিলিয়ন ডলার আমদানির রফতানির গ্রুপে জায়গা করে নেওয়া একমাত্র বিদেশি শিল্প গ্রুপ ইয়াংওয়ান করপোরেশন। দক্ষিণ কোরীয় ব্যবসায়ী কিহাক সাংয়ের মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠান শতভাগ রফতানিনির্ভর পণ্য উৎপাদন করে। বাংলাদেশের শীর্ষ রফতানিকারক এই শিল্প গ্রুপটি গত অর্থবছরে ৫৫ কোটি ডলারের কাঁচামাল আমদানি করেছে। রফতানি করেছে ৯৭ কোটি ডলারের পণ্য। ইয়াংওয়ানের প্রচ্ছন্ন রফতানিও রয়েছে। ইয়াংওয়ানের যাত্রা শুরু হয়েছে প্রায় ৪৫ বছর আগে চট্টগ্রাম থেকে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কোরিয়ান ইপিজেড ইয়াংওয়ানের হাত ধরেই যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় ইয়াংওয়ানের কারখানাগুলোয় কাজ করেন ৭৩ হাজারের বেশি লোক।
রফতানির সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে ইয়াংওয়ান করপোরেশনের চেয়ারম্যান কিহাক সাং বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক ব্যবসায়িক পরিবেশের কিছুটা অবনতি ঘটছে। ফলে বাংলাদেশের পণ্য রফতানিপ্রবৃদ্ধির সামগ্রিক পূর্বাভাস ততটা আশাব্যঞ্জক নয়। এরপরও বাংলাদেশ থেকে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে লিড টাইম (পণ্যের ক্রয়াদেশপ্রাপ্তি থেকে জাহাজীকরণের সময়পর্ব) দুই থেকে তিন সপ্তাহ কমানো গেলে রফতানি প্রবৃদ্ধি আরও বাড়বে। এ লক্ষ্য অর্জনে বন্দরের কার্যক্রম, শুল্কপ্রক্রিয়া, শিপিংসহ অবকাঠামোখাতের উন্নয়ন দরকার।
বহুমুখী বিনিয়োগ সিটি গ্রুপের: ভোগ্যপণ্য শিল্পে নেতৃত্ব দেওয়া সিটি গ্রুপের আমদানি-রফতানিখাতে লেনদেন কমেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তাদের লেনদেন ২২ শতাংশ কমেছে। ভোগ্যপণ্য খাত থেকে বেরিয়ে বৈচিত্র্য আনতে গ্রুপটি একসঙ্গে বহুমুখী খাতে বিনিয়োগ শুরু করেছিল। এ তালিকায় রয়েছে কাগজ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলপিজি, সিমেন্ট খাত, কাজুবাদাম, চা বাগান ইত্যাদি। তাতে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে গেছে। তৃতীয় অবস্থান থেকে নেমে বর্তমানে গ্রুপটি বিলিয়ন ডলার ক্লাবে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। সিটি গ্রুপ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১২৯ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। সরকারকে রাজস্ব দিয়েছে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বা ১৫ কোটি ডলার। আবার এক কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। গ্রুপটির রফতানির তালিকায় রয়েছে খাদ্যপণ্য, চা, ভোজ্যতেল, প্রাণিখাদ্য ইত্যাদি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছরে তাদের লেনদেন ২২ শতাংশ কমেছে।
শিল্পোদ্যোক্তা ফজলুর রহমানের হাত ধরে ১৯৭২ সালে যাত্রা শুরু হয় সিটি গ্রুপের। গত দুই দশকে গ্রুপটির বহরে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান। গ্রুপটির প্রধান ব্র্যান্ড ‘তীর’।
ব্যবসা বাড়ছে স্কয়ার গ্রুপের: এক বছরের ব্যবধানে আমদানি রফতানি খাতে স্কয়ার গ্রুপের লেনদেন বেড়েছে ১২ শতাংশ। তাতে তালিকায় দুই ধাপ এগিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে উন্নীত হয়েছে গ্রুপটি। গত অর্থবছরে এই গ্রুপ শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে ব্যয় করেছে প্রায় ৭৭ কোটি ডলার। দেশে বাজারজাত করার পাশাপাশি রফতানি করেছে ৪৩ কোটি ডলারের পণ্য। তাদের রফতানি তালিকায় সিংহভাগই তৈরি পোশাক। এর বাইরে রফতানি তালিকায় রয়েছে ওষুধ, প্রসাধন ও খাদ্যপণ্য। গ্রুপটি দেশীয় বাজারেও ওষুধ, নিত্যব্যবহার্য পণ্য বাজারজাত করছে। গ্রুপটিতে কর্মসংস্থান হয়েছে ৮০ হাজারের বেশি মানুষের।
জানতে চাইলে স্কয়ার টেক্সটাইলের চেয়ারম্যান ও স্কয়ার ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তপন চৌধুরী বলেন, ‘মরা আশাবাদী, সামনের দিনগুলোয় স্কয়ার গ্রুপের আমদানি-রফতানি আরও বাড়বে। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী অবস্থায় থাকে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।’ বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হওয়ার পেছনে স্কয়ার গ্রুপের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা রয়েছে। আমরা আসলে একটি ল হিসেবে কাজ করি। প্রতিষ্ঠানের স্থিতিশীলতার জন্য সবার মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ। স্কয়ারে বহু বছর সেটি থাকায় আমরা প্রত্যেক সদস্যের প্রতি সন্তুষ্ট। আমরা একসঙ্গে বেড়ে উঠেছি। সামনের দিনেও সেভাবেই এগিয়ে যেতে চাই। অর্থনীতিতে যে প্রবৃদ্ধি হওয়া দরকার, তা ঠিক রাখতে আইনের শাসনসহ বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো দূর করা দরকার। শেয়ারবাজারও কার্যকর করা দরকার— যোগ করেন তপন চৌধুরী।
টি কে গ্রুপের দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি: টি কে গ্রুপের আমদানি রফতানিতে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে গত অর্থবছরে। এ নিয়ে টানা দুই বার বিলিয়ন ডলার ক্লাবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে গ্রুপটি। এ সময়ে গ্রুপটি ১১৪ কোটি ৭৪ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। আমদানির তালিকায় ছিল ভোগ্যপণ্য, বিশেষ করে ভোজ্যতেল, ঢেউটিনের কাঁচামাল ইত্যাদি। তারা রফতানি করেছে ৪৫ লাখ ডলারের পণ্য। রফতানি তালিকায় রয়েছে খাদ্যপণ্য, জুতা, সুতা ও রাসায়নিক। অর্ধশত বছরের পুরোনো এই শিল্প গ্রুপটির যাত্রা শুরু হয় মোহাম্মদ আবু তৈয়ব ও মোহাম্মদ আবুল কালাম দুই ভাইয়ের হাত ধরে। গ্রুপটিতে কর্মসংস্থান হয়েছে ৫০ হাজার লোকের।
জানতে চাইলে টি কে গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মাদ মুস্তাফা হায়দার বলেন, ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি স্বাভাবিক ব্যবসার অংশ। গত অর্থবছরে ডলারের দাম স্থিতিশীল থাকায় ধারাবাহিক আমদানি সম্ভব হয়েছে। তবে অর্থনীতিতে যে প্রবৃদ্ধি হওয়া দরকার, তা ঠিক রাখতে আইনের শাসনসহ বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো দূর করা দরকার। শেয়ারবাজারও কার্যকর করা দরকার। তাহলে প্রবৃদ্ধি আরও বাড়বে।
এক খাতেই বিএসআরএমের বিলিয়ন ডলার: লৌহ ও ইস্পাত খাতের ব্যবসা দিয়ে বিলিয়ন ডলার ক্লাবে জায়গা করে নেওয়া গ্রুপ বিএসআরএম গত অর্থবছরে ১০২ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। প্রায় সবই লোহার কাঁচামাল। তবে গ্রুপটির রফতানি নেই। অনিয়মিতভাবে ভারতে রড রফতানি করে আসছিল গ্রুপটি। রডের বাজারে মন্দা থাকায় গত অর্থবছরে গ্রুপটির আমদানি-রফতানিতে লেনদেন ১১ শতাংশ কমেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে গ্রুপটির লেনদেন ছিল ১১৪ কোটি ডলার। ১৯৫২ সালে যাত্রা শুরু করা গ্রুপটির নেতৃত্ব দিচ্ছে এখন তৃতীয় প্রজন্ম।
বিএসআরএম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমের আলি হুসাইন বলেন, বিএসআরএম গ্রুপ মূলত ইস্পাতপণ্য তৈরির কাঁচামাল আমদানি করে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম আগের তুলনায় কমেছে। এ কারণে আমদানিতে লেনদেনও কমেছে।

