টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে শেয়ারবাজারে দরপতন: সূচক ও লেনদেনে মন্দাভাব

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো দরপতন ও লেনদেন মন্দা পরিলক্ষিত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ব্যাংক খাতের দুর্বল আর্থিক ফলাফল এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির উদ্বেগে বিনিয়োগকারীরা গত সপ্তাহে ছিল চরম সতর্ক। এতে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমার পাশাপাশি দৈনন্দিন গড় লেনদেনও ১২ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।
সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ১.০ শতাংশ বা ৫২.৮ পয়েন্ট কমে ৫,২৩৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে ডিএস-৩০ সূচক ০.৮ শতাংশ কমে ২,০০২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে ব্যতিক্রম ছিল শরীয়াহ সূচক, যা ০.৫ শতাংশ বেড়ে ১,০৫৮ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।
লেনদেনের খরা বাজারে স্পষ্ট ছিল। গত সপ্তাহে গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮৩০ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ১২.০ শতাংশ কম। মোট শেয়ার হস্তান্তরের পরিমাণও ১২.২ শতাংশ কমে ২৭ কোটি ২০ লাখে নেমে এসেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডিএসইতে এই টানা পতনের পেছনে দেশি-বিদেশি একাধিক কারণ কাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ইরান-ইসরায়েল উত্তজনা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.০৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। ব্যাংক খাতের কিছু প্রতিষ্ঠানের হতাশাজনক আর্থিক ফলাফল এবং সিটি ব্যাংক, ইবিএল ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর কমে যাওয়া সূচকে বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সংশোধিত মার্জিন রেগুলেশন পরিপালনের সময়সীমা ঘনিয়ে আসা এবং বড় কোম্পানিগুলোর ‘রেকর্ড-ডেট’ পরবর্তী মূল্য সমন্বয় বাজারের স্বাভাবিক গতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল প্রকৌশল (১৪.৩%), ব্যাংক (১৪.৩%) এবং ওষুধ ও রসায়ন (১৩.১%) খাত। খাতের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ মুনাফা দিয়েছে পাট খাত (৭.৫%), সিরামিক (৭.৩%) এবং ভ্রমণ ও অবকাশ (১.৮%)। অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে জীবন বিমা (-২.৯%), ব্যাংক (-২.৩%) এবং সেবা ও আবাসন (-২.৩%) খাতে।
সপ্তাহের ব্যবধানে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে মুন্নু সিরামিক (৩২.৩%), এসআইসিএল (৩১.০%) ও মিথুন নিটিংয়ের (২৭.৩%)। অন্যদিকে দর কমার শীর্ষে ছিল মার্কেন্টাইল ব্যাংক (-২০.৫%), এবি ব্যাংক (-১৩.২%) এবং আইএসএন লিমিটেড (-১৩.০%)।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা ‘ধীরে চলো’ নীতি অবলম্বন করছেন। নতুন বিনিয়োগের চেয়ে তারা পর্যবেক্ষণকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ারের প্রতি নজর রাখলে দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ২৮ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। প্রতিদিন গড়ে ২২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা লেনাদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে লাভেলো আইসক্রিম।
এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- মুন্নু সিরামিক, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, সিটি ব্যাংক, মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মা, জিকিউ বলপেন এবং রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স।



