আগামীর সময়

দুই বড় খবরে ঘুরে দাঁড়াল দেশের শেয়ারবাজার

  • মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমার আভাসে শেয়ারবাজারে আস্থা ফিরেছে
  • বিদেশি বিনিয়োগকারীদের টাকা ফিরিয়ে নেওয়ার সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক
  • ব্যাংক ও ওষুধ খাতের শেয়ারে বিনিয়োগ বাড়ায় সূচক উত্থান
দুই বড় খবরে ঘুরে দাঁড়াল দেশের শেয়ারবাজার

গ্রাফিক্স: আগামীর সময়

টানা বড় পতনের পর দেশের শেয়ারবাজারে স্বস্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের আতঙ্ক কাটিয়ে সোমবার ও আজ মঙ্গলবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের বড় উত্থান লক্ষ করা গেছে। বাজার-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মূলত দুটি প্রধান কারণে বাজার শক্তিশালীভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বন্ধের জোরালো আভাস, যা বিশ্ব অর্থনীতির পাশাপাশি বাংলাদেশের শেয়ারবাজারকেও চাঙ্গা করে তুলছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছিল বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে, যেখানে বিনিয়োগকারীরা চড়া লোকসানের ভয়ে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে যুদ্ধ বন্ধের ইতিবাচক সংকেত মেলায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভরসা ফিরে এসেছে। তারা মনে করছেন, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কমলে বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতা আসবে, যার সুফল পাবে দেশের অর্থনীতি।

বাজার চাঙ্গা হওয়ার দ্বিতীয় প্রধান কারণ হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মূলধন ফিরিয়ে নেওয়ার (রিপ্যাট্রিয়েশন) সীমা ১০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ কোটি টাকা করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য মুনাফা বা আসল টাকা নিজ দেশে নিয়ে যাওয়া সহজ হলো, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই পদক্ষেপ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বাড়াবে এবং তারা আবার নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন।

সূচকের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় সোম ও মঙ্গলবার লেনদেনের শুরু থেকেই ডিএসই ও সিএসইতে ক্রেতাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং ও ওষুধ খাতের মতো শক্তিশালী মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ারগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের প্রবল আগ্রহ দেখা গেছে, যার ফলে এসব শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাজার-সংশ্লিষ্টদের মতে, গত কয়েকদিন যারা বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সাইডলাইনে ছিলেন, তারা বর্তমান বাজারমূল্যকে বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত ‘আকর্ষণীয়’ ও মুনাফাদায়ক মনে করে পুনরায় সক্রিয় হচ্ছেন। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এমন বিশ্বাস দৃঢ় হচ্ছে যে, মানসম্মত শেয়ারে এখনকার বিনিয়োগ ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের রিটার্ন দিতে পারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা বাজারে যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে, তা দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথে বড় ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ডলারের বিনিময় হার স্বাভাবিক রাখতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপগুলো বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এখন হুজুগে নয়, বরং কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির ওপর ভরসা রেখে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে বিনিয়োগ করছেন, যা বাজারের জন্য একটি ইতিবাচক ও সুস্থ ধারা নিশ্চিত করছে।

পরিশেষে বলা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমন এবং বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব নতুন নীতিমালা গ্রহণ শেয়ারবাজারে যে অনন্য গতির সঞ্চার করেছে, তা আগামীর সমৃদ্ধির পথকে প্রশস্ত করছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এবং বাজারের সব স্টেকহোল্ডারের সম্মিলিত ও স্বচ্ছ প্রচেষ্টায় বিনিয়োগকারীদের এই আস্থা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সুদৃঢ়। সংশ্লিষ্টরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাশা করছেন, চলতি বছরে শেয়ারবাজার একটি শক্তিশালী ও টেকসই অবস্থানে থেকে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে এবং জাতীয় উন্নয়নে অভূতপূর্ব গতিশীলতা আনবে।

    শেয়ার করুন: