আগামীর সময়

পতনের বৃত্ত ভেঙে ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার

পতনের বৃত্ত ভেঙে ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার

আগামীর সময় গ্রাফিক্স

টানা পতনের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে বুধবার (১ এপ্রিল) দেশের শেয়ারবাজারে উত্থান হয়েছে। এতদিন সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা থাকলেও লেনদেনে ছিল ঊর্ধ্বগতি। সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে এসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। একই চিত্র দেশের অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)।

দিন শেষে, ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৯৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৭২ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৫৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই–৩০ সূচক ৪১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ১ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯১ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩২৭টির, দর কমেছে ৩৯টির ও দর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৫টির। ডিএসইতে ৭১৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৩৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬৮৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২০০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৭৯ পয়েন্টে। সিএসইতে ২০০টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩৩টির দর বেড়েছে, কমেছে ৪৩টির এবং ২৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৪২ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

কিছুদিন ধরে দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেনের টানা ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। যদিও সূচকের ধারবাহিক পতন অব্যহত ছিল। একদিকে শেয়ারের দর কমছে, অন্যদিকে লেনদেন বাড়ছে। টানা পতনে থাকায় অধিকাংশ শেয়ার আকর্ষণীয় ক্রয় মূল্যে অবস্থান করছে। যার কারণে সূচকের পতন হলেও লেনদেনের পরিমাণ বাড়ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় আজও লেনদেনে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেলো।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সামগ্রীক অর্থনীতিতে চলছে টালমাটাল অবস্থা। যার নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারছে না শেয়ারবাজার। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে দেশের ব্যবসা বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। উৎপাদন ব্যবস্থায় ইতোমধ্যে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। রপ্তানি বাণিজ্য পড়েছে ঝুঁকির মুখে। এমন পরিস্থিতিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো সামনে বিনিয়োগকারীদের চাহিদামাফিক লভ‍্যাংশ দিতে পারবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যার ফলে অনেকেই হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে বাজার ছাড়তে চাইছেন। যার ফলে সূচকের নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছিল।

তবে ভিন্ন চিত্রও রয়েছে। দীর্ঘ দরপতনের কারণে অধিকাংশ মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারদর যৌক্তিক ক্রয় মূল্যে নেমে এসেছে। যে সব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে দীর্ঘ মেয়াদে লাভ করা সম্ভব হবে। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করলেও প্রাতিষ্ঠানিক আর বড় বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনছেন। যার প্রভাবে বাজারে সূচকের পতন হলেও লেনদেনের পরিমাণ প্রতিদিনই ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

বুধবার ডিএসইতে শেয়ার দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার দর বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ শতাংশ। কোম্পানিটির ৮১১ বারে ২৬ লাখ ৪৭ হাজার ৭৯৮টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার বাজার মূল্য ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

তালিকায় ২য় স্থানে থাকা বাংলোদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর বৃদ্ধি পেয়েছে ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ। কোম্পানিটির ২ হাজার ২৮৬ বারে ২১ লাখ ৭৯ হাজার ৯৫৬টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার বাজার মূল্য ১৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। তালিকার ৩য় স্থানে থাকা এপেক্স স্পিনিংয়ের শেয়ার দর বৃদ্ধি পেয়েছে ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ। কোম্পানিটির ১ হাজার ৪২৮ বারে ৩ লাখ ৯০ হাজার ৬৩টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার বাজার মূল্য ৮ কোটি ২২ লাখ টাকা।

তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে– ইবিএল এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ৯.৬৮ শতাংশ, ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ডের ৯.৬৮ শতাংশ, আইএফআইসি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ৯.৫২ শতাংশ, ফার কেমিক্যালের ৯.৪০ শতাংশ, পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ৯.৩৮ শতাংশ, আইসিবি সেকেন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ৯.০৯ শতাংশ ও পিএইচপি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ানের ৮.৮২ শতাংশ ইউনিট দর বেড়েছে।

লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেড। কোম্পানিটির ২২ কোটি ৭৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা সামিট অ‍্যালায়েন্স পোর্টের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ৩০ লাখ ০৪ হাজার টাকার।

১৯ কোটি ৪০ লাখ ৩৮ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে- একমি পেস্টিসাইড লিমিটেড, দ্য সিটি ব্যাংক পিএলসি, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, হাক্কানি পাল্প অ্যান্ড পেপার লিমিটেড, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি ও সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।

    শেয়ার করুন: