রাজস্বে চাপ, তবু মুনাফা ইতিবাচক গ্রামীণফোনের

সংগৃহীত ছবি
প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখে পড়ে রাজস্ব আয়ে সামান্য ছন্দপতন ঘটলেও, দক্ষ ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও ডেটা সেবার প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) মুনাফা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন। কোম্পানির সদ্য প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৪.৯০ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪.৬৯ টাকা। গত বছর একই সময়ে নগদ টাকার প্রবাহ ছিল ১৪.১১ টাকা। কিন্ত চলতি প্রান্তিকে আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২.৪৮ টাকা। শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য গত বছর ছিল ৫২.৬৪ টাকা; কিন্তু চলতি প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য কমে দাঁড়িয়েছে ৪৬.৩৯ টাকা।
রাজস্ব কমে যাওয়ার পরও মুনাফা বৃদ্ধির মূল রহস্য হিসেবে ‘ব্যয় সংকোচন’কে সামনে নিয়ে এসেছে গ্রামীণফোন। কোম্পানিটির অপারেটিং ব্যয় ২ শতাংশ এবং পণ্যের বিক্রীত পণ্যের ব্যয় ৭.৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। এ ছাড়া ভয়েস কল থেকে আয় কিছুটা কমলেও, ইন্টারনেট ডেটা সেবার প্রবৃদ্ধি সেই ঘাটতি অনেকটাই পুষিয়ে দিয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে এনওসিএফপিএস ১১.৬ শতাংশ কমেছে, যার প্রধান কারণ আগের বছরের একই সময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি পরিমাণ আদায় হওয়া। তবে সরবরাহকারীদের প্রতি কম পরিশোধের মাধ্যমে এর প্রভাব আংশিক সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ২০২৬ সালের মার্চ শেষে কোম্পানির এনএভি ১১.৮ শতাশং বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মূলত চলতি প্রান্তিকে অর্জিত মুনাফার প্রতিফলন।
এই আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার লেনদেনের দুই ঘণ্টা পর গ্রামীণফোনের শেয়ার দর ০.৪১ শতাংশ বেড়ে ২৪৩ টাকায় লেনদেন হতে দেখা যায়।



