শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের গণ-ইফতার

ছবিঃ আগামীর সময়
শহীদ ওসমান হাদি ও জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে রাজধানীর শাহবাগে গণ-ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। রবিবার (৮ মার্চ) শাহবাগের শহীদ হাদি চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
ইফতার শেষে অংশগ্রহণকারীরা একই স্থানে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। পরে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শাহবাগ মোড় থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি লড়াই করে’, ‘গোলামী না আজাদী? আজাদী আজাদী;, ‘গোলামী না ইনকিলাব? ইনকিলাব ইনকিলাব’, ‘কে বলে রে হাদি নাই, হাদি সারা বাংলায়’, ‘লাল জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে ওঠো আরেকবার’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিল শেষে টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জবাব শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান।
তিনি বলেছেন, ‘হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা যদি দেশের বাইরে, বিশেষ করে ভারতে অবস্থান করে, তবে তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’
আব্দুল্লাহ আল জবাব বলেছেন, ‘বিভিন্ন স্থানে ইফতার কর্মসূচির মাধ্যমে তারা শহীদ হাদি হত্যার বিচারের দাবি তুলে ধরছেন এবং এ বিষয়ে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দলের কিছু ছাত্রী শহীদ হাদিকে নিয়ে কটূক্তি করছেন। সংশ্লিষ্ট দলের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, আপনারা যদি তাদের থামাতে না পারেন, তবে আমরা ধরে নেব এসব কর্মকাণ্ড আপনাদের প্রশ্রয়ে হচ্ছে।’
সমাবেশে তিনি আরও বলেছেন, ‘দেশের মানুষ দীর্ঘ ১৭ বছর ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল এবং এ সময় গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কার্যালয় পুনরায় চালু হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে কোনো অফিস খোলা হলে জনগণ তা প্রতিহত করবে।’
পুলিশের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে যারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে এখনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, একই বাহিনী দিয়ে দেশে আবারও একটি পুলিশি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।
আব্দুল্লাহ আল জবাব বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা আপসহীন। কোনো রাষ্ট্র সহযোগিতা করতে পারে, কিন্তু আধিপত্যবাদ মেনে নেওয়া হবে না—সে ভারত হোক বা যুক্তরাষ্ট্র।’

