জাহের আলভীর বিরুদ্ধে মামলা করল ইকরার পরিবার

মডেল-অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইবনাত খান ইকরার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় বিনোদন অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গের বাইরে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবশে ভারী হয়ে ওঠে।
এদিকে স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় জাহের আলভীকে প্রধান আসামি করে প্ররোচনা মামলা করা হয়েছে।
রোববার মৃত ইকরার পিতা কবির হায়াত খান রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- অভিনেতা নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া ওরফে জাহের আলভী ও তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলী।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মামলার প্রধান আসামি জাহের আলভীর সঙ্গে তার মেয়ে ইকরার ২০১৩ সালে প্রেমের সম্পর্কে বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ৫ বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর জাহের আলভী তার মা শিউলীর প্ররোচনায় স্ত্রী ইকরাকে মানসিক নির্যাতন করতেন। ভিকটিমের পিতা বিয়য়টি জানতে পেরে শিউলীর মাধ্যমে পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করলেও শিউলী তাদের কথায় কর্ণপাত করেনি।
প্রায় ২ বছর আগে ইকরা জানতে পারেন- তার স্বামী আলভী অজ্ঞাতনামা এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত। এ ঘটনায় স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ইকরাকে তাদের জীবন থেকে সরে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে প্ররোচনা করেন জাহের আলভী ও তার মা শিউলী। এমনকি ভিকটিমকে গালিগালাজ, অপমান ও বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক কথাবার্তা বলে তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেন।
আলভী তার স্ত্রীকে প্রায়ই বলতেন, ‘তুই মরলেও আমার কিছু যায় আসে না। তোর যা মন চায়, তুই কর।’ একপর্যায়ে মামলার আসামিদের অপমান, অবহেলা ও উসকানিমূলক কথাবার্তা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন ইকরা।
পল্লবী থানার ওসি একেএম আলমগীর জাহান বলেন, আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে। আসামিরা পলাতক।

