নকলে ভরপুর ‘ধুরন্ধর’

শাশ্বত সচদেব এখন আলোচিত সংগীত পরিচালক। ছবি: সংগৃহীত
বলিউডের নতুন ছবি ধুরন্ধর ঘিরে যতটা আলোচনা, তার বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছেন এর সংগীত পরিচালক শাশ্বত সচদেব। অনেকেই বলছেন, ধুরন্ধর ছবির গান নতুন ট্রেন্ড তৈরি করেছে, গানগুলো এই দশকের সবচেয়ে জনপ্রিয়। কিন্তু অনেকেই এই মতামতের সমালোচনা করেছেন। কারণ ছবিটির বেশিরভাগ গানই পুরোনো জনপ্রিয় গানের রিমিক্স বা পুনর্নির্মাণ। সেখানে সংগীত পরিচালক নতুন কী সৃষ্টি করলেন সেই প্রশ্ন উঠছে।
‘ধুরন্ধর’ ছবির প্রথম অংশে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল ‘মুভ ইয়ে ইশ্ক ইশ্ক’ গানটি। এই গান মূলত ১৯৬০ সালের ‘বারসাত কি রাত’ ছবির বিখ্যাত কাওয়ালি ‘ইয়ে ইশ্ক ইশ্ক হ্যায়’ গানের রিমিক্স। মূল গানটির সুরকার ছিলেন কিংবদন্তি রোশন। একইভাবে দর্শকদের মন কাড়ে ১৯৭৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আরমান’ ছবির জনপ্রিয় গান ‘রাম্বা হো হো’। এই গানের সুরকার ছিলেন ডিস্কো কিং বাপ্পি লাহিড়ী। ‘ধুরন্ধর ২’ ছবিতেও বেশিরভাগ গানই পুরোনো হিট গানের পুনর্নির্মাণ। যেমন ‘রং দে লাল’ গানটি আসলে ‘তিরছি টোপিওয়ালে’ গানের নতুন সংস্করণ। গানটির স্বত্ব রয়েছে ত্রিমূর্তি ফিল্মসের, কিন্তু অনুমতি ছাড়াই গান ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। ত্রিমূর্তি ফিল্মস ‘ধুরন্ধর’ নির্মাতাদের বিরুদ্ধে কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে মামলা করেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আদিত্য ধরের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘বি৬২’ স্টুডিওস অনুমতি ছাড়াই ‘রং দে লাল’ গানটি ব্যবহার করেছে।
এছাড়া ‘ধুরন্ধর পার্ট ২’ ছবির শাশ্বত সচদেবের অন্যান্য ‘নতুন’ গানগুলোর মধ্যেও রয়েছে পুরোনো হিট গানের ছাপ। এর মধ্যে আছে আলজেরিয়ান গায়ক খালেদের ১৯৯২ সালের হিট ‘ডিডি’, কিশোর কুমারের ‘বেকাসি’ এবং বাপ্পি লাহিড়ীর জনপ্রিয় ‘তাম্মা তাম্মা’।
অর্থাৎ ছবির প্রায় প্রতিটি গানই পুরোনো জনপ্রিয় গানের পুনর্নির্মাণ। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে মৌলিক সৃষ্টির বদলে পুরোনো গানই বারবার ব্যবহার করা হচ্ছে, সেখানে কীভাবে শাশ্বত সচদেবকে এই দশকের পথপ্রদর্শক সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে?
সূত্র : দ্য হিন্দু



