আগামীর সময়

দমের প্রশংসা তারকাদের মুখে, সাধারণের কাছে ‘গড়পড়তা’

দমের প্রশংসা তারকাদের মুখে, সাধারণের কাছে ‘গড়পড়তা’

ঈদে মুক্তি পেয়েছে চলচ্চিত্র ‘দম’। এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর পরিচালনায় ফিরলেন রেদওয়ান রনি। আলোচিত এই ছবিতে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো ও পূজা চেরী। চলচ্চিত্রটি একক কোনো প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়নি, মুক্তি পেয়েছে দেশের মাল্টিপ্লেক্সগুলোয়। এই চলচ্চিত্রকে কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এছাড়াও তারকা পর্যায়ের অনেকেই চলচ্চিত্রটির প্রশংসা করেছেন। এই তালিকায় রয়েছেন কবি সাজ্জাদ শরীফ, অভিনেত্রী মেহজাবীন, অভিনেতা ইমতিয়াজ বর্ষণসহ অনেকেই।

তবে সাধারণ পর্যায়ের দর্শকদের মধ্যে হতাশাও দেখা গেছে। বলা হচ্ছে গল্প টেনে বাড়ানো হয়েছে। সিনেমা শেষে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া— ‘গড়পড়তা।’ অন্যদিকে আনিসুল হক চলচ্চিত্রের ভূয়শী প্রশংসা করেছেন। তিনি সকল বাংলাদেশির এই সিনেমা দেখা উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন।

আনিসুল হক বলছেন, ‘‘দেশপ্রেমে, দেশের জয়ে চোখে পানি আসে। ছবির দৃশ‍্যায়ন, লোকেশন, আর্ট ডিরেকশন আন্তর্জাতিক মানের। আফরান নিশোর অভিনয় সেই রকমের। চঞ্চল চৌধুরী দারুণ একটা চরিত্র পেয়েছেন। আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে পূজা চেরির অভিনয়। আফগান তরুণটির নাম জানি না, অসাধারণ। আর আফগান শিশু দুটি, আহা! গল্পের টুইস্ট দারুণ, স্পয়লার দিব না। সব কিশোর তরুণের উচিত বাংলাদেশি বিশ্বমানের চলচ্চিত্র ‘দম’ দেখা। রেদোয়ান রনি, আপনি বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন।’’

ছবিটির প্রশংসা করেছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীও। এই অভিনেত্রী বলছেন, ‘দম’ আমার কাছে সত্যিই একটা এক্সেপশনাল এক্সপেরিয়েন্স ছিল। একজন অডিয়েন্স হিসেবে মনে হয়েছে আমি যেন অন্য একটা জগতে চলে গেছি, আফগানিস্তান। পুরো সময়টা একটা দমবন্ধ লাগা, বন্দি হয়ে থাকার অনুভূতি কাজ করেছে। নূরের সাথে সাথে নিজেকেও বন্দি মনে হয়েছে বারবার, আর রানির জন্য অনেক কষ্ট লেগেছে। আর পুরো সিনেমা জুড়ে একটা জিনিসই মনে হয়েছে, নূর যেন বেঁচে থাকে।’’

প্রশংসা করে অভিনেতা ইমতিয়াজ বর্ষণও ছবিটিকে গ্লোবাল সিনেমা বলছেন। তার ভাষ্য, ‘‘দম’ আপনাকে একটা গ্লোবাল সিনেমা দেখার স্বাদ দেবে। আফরান নিশো ভাই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চরিত্রের গভীরে এমন আষ্টেপৃষ্টে লেপ্টে ছিলেন, যে এত টানটান উত্তেজনার চিত্রনাট্যেও আমার চোখের কোণ ভিজে উঠেছে কয়েকবার। পূজা চেরির ভীষন ম্যাচিউরড ন্যাচারাল প্রেজেন্টেশন আপনাকে ইমোশনালি কানেক্ট করবেই। চঞ্চল ভাই এর ছোট্ট বাট ইম্পেক্টফুল প্রেজেন্স অসাধারণ। ডলি মাকে দেখে ভীষণ ভালো লেগেছে।’’

তারকারা প্রশংসা করলেও সাধারণ অনেকেই সিনেমার সমালোচনাও করছেন। মাগুরার হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী নাহিদা বলছেন, ‘আজ এক মজার কাহিনি, হলে দম দেখছি, পাশের আঙ্কেলটা মাথা ঝুঁকিয়ে ঘুমাচ্ছে, পপকর্ন হাত থেকে পড়ে যাচ্ছে! ডানকির মতোই একঘেয়ে গল্প, রেদওয়ান রনি আবার সেই ফেল ড্রামা। আমি তো ভাবছি টিকিটের টাকা ফেরত নিয়ে ঘুমাতে যাই। পুরো হল এখন স্লিপ পার্টি চলছে!’

একই ধরনের কথা শোনা যাচ্ছে চলচ্চিত্রপ্রেমী আল ইমরানের কণ্ঠে, ‘‘ দেখে তো হাসি পাচ্ছে! ডানকির মতোই লাগছে, শুধু নায়ক বদলেছে। রেদওয়ান রনির ফেল ফর্মুলা আবার। বক্স অফিসে শূন্য। পচানির আইডিয়া: সব সিনেমায় বলুন “গল্প যদি আগে থেকেই প্রেডিক্টেবল হয়, তাহলে দর্শক থিয়েটার থেকে বেরিয়ে যাবে মাঝপথে” – এটা দমের মতো সব ব্যর্থ মুভির জন্য কাজ করে!’’

সিনেমাটি কমার্শিয়াল নাকি আর্ট ফিল্ম এ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। ছবিটিকে টেনে লম্বা বানানো হয়েছে বলেও দাবি করেছেন মোহাম্মদ খোকন। তিনি বলছেন, ‘নিশো আফগানিস্তানের এক এনজিওতে কাজ করে। তাকে তালেবান ধরে মুক্তি পণ চায়। নিশো তালেবানের হাতে বন্দী থাকে এবং অত্যাচারিত হয়। তাকে তার সহকর্মী ও বাংলাদেশ সরকার মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত করে। এই হলো মুল গল্প। এই টুকু গল্পকে টেনে ২ ঘণ্টার ওপর লম্বা করেছে । একজন নায়ক সে নিজের যোগ্যতায় মুক্ত হয়ে আসবে। তবেই সে নায়ক । যদি এটাকে আর্ট সিনেমা বা পুরস্কারের জন্য তৈরি করে, তাহলে ঠিক আছে । কিন্তু দম টিম এটাকে কমার্শিয়াল সিনেমা বলছে। কমার্শিয়াল সিনেমা হিসেবে এটা খুব ধীরগতির সিনেমা।’

তবে অনেক দর্শক ছবিটিকে পছন্দও করছেন। 

    শেয়ার করুন: