আগামীর সময়

মনিকা কবির কোনো রিয়েল ভিক্টিম না : সালমান মুক্তাদির

মনিকা কবির কোনো রিয়েল ভিক্টিম না : সালমান মুক্তাদির

সালমান মুক্তাদির

ঢাকার ট্রাফিক সিগন্যালে আটকে আছে অজস্র গাড়ি। পথচারী ফাঁক খুঁজে গলিয়ে দিচ্ছেন নিজেকে, পেরিয়ে যাচ্ছেন পথ। চারদিকে কোলাহল, হর্নের শব্দ। এরমধ্যেই দেখা গেল একজন নারী এক পথচারী ব্যক্তিকে পেটাচ্ছেন। লোকটির পরনের পোশাক ও ছিঁড়ে যাওয়া ময়লা ব্যাগ দেখেই ছিন্নমূল হিসেবেও মনে করতে পারেন কেউ কেউ।

এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে দেখা যায়, যে নারী ব্যক্তিকে পেটাচ্ছেন, তিনি একজন মডেল। রাশিয়ান বংশোদ্ভুদ বাংলাদেশি এই মডেল কিছুদিন আগে দেশের মিডিয়ায় আলোচনায় আসেন। ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার গুলশান এভিনিউয়ের রাস্তায়।

এই ঘটনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা। কেউ কেউ বলছেন মনিকা কবির যা করেছেন ঠিক করেছেন। কেননা লোকটি মডেলকে অশালীনভাবে স্পর্শ করেছে। ভিডিও দেখে কেউ কেউ আবার বলছেন, লোকটির কোনো দোষ নেই। অহেতুক তাকে মারধর করা হয়েছেন। লোকটি তাকে স্পর্শ করেনি।

এবার এ বিষয়ে ভিডিওতে এসে কথা বললেন সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত ব্যক্তি ও অভিনেতা সালমান মুক্তাদির। মনিকা কবিরের ঘটনাকে ‘ভিক্টিম’ ইস্যু হিসেবে দেখানো ঠিক নয়; এতে প্রকৃত নির্যাতনের শিকার নারীদের প্রতি অসম্মান দেখানো হতে পারে।

সালমান বলছেন, “আমি মনে করি মনিকা কবির কোনো রিয়েল ভিক্টিম না, ওই লোকটাও হ্যারাসার না। ইনফেক্ট মনিকা কবিরকে ভিক্টিম বললে রিয়েল মলেস্টেশনে যারা ভিক্টিম, তাদের অপমান করা হবে।”

মনিকা কবিরকে যারা ভিক্টিম হিসেবে অভিহিত করছেন তাদেরকেও একহাত নিলেন তিনি। আলোচিত এই তরুণের ভাষ্য, দেশের ইনফ্লুয়েন্সাররা কিন্তু জানে না একটা রাস্তার মানুষ কেমনে হাঁটে। ওরা তো ক্রিমসন কাপে গিয়ে বসে থাকে। প্রতিদিন চলন্ত রাস্তার মানুষজন একটা ব্যাগ নিয়ে যখন চলতেছে, সে তো অসংলগ্ন অবস্থায় থাকে। কিন্তু এই বাস্তবতা না বুঝেই অনেকে এই ধরনের ঘটনার জাস্টিস চাইতে গিয়ে উল্টো ইনজাস্টিস করে ফেলছে।”

“একটা মেয়েকে যখন হ্যারাস করা হবে, তার পোশাক নিয়ে কথা বলা হবে, তাকে মলেস্ট করা হবে বা কনসেন্ট ছাড়া স্পর্শ করা হবে—তখন অবশ্যই তার অ্যাকশন নেওয়া উচিত। আমরা সবাই সেই কথাই বলি। কিন্তু প্রশ্ন হলো— এই ইস্যুতে আমরা কি সঠিক ব্যক্তির জন্য সঠিক কথা বলছি? সে কি সত্যিই রিয়েল ভিক্টিম?” নারীদের হয়রানির বিষয়ে মত দেন বিতর্কিত এই ইউটিউবার।


সালমান মনিকার কন্টেন্টের ধরন ব্যখ্যা করেন এভাবেই, “আপনারা জানেন, মেয়েদের অবস্থা বাংলাদেখে কতো খারাপ। রিয়েল ভিক্টিমদের সাথে কী হয়, আপনারা জানেন। তো এ কারণে ভেতর থেকে হয়তো আপনার ব্যক্তিগত আগ্রহ এ নিয়ে থাকতেই পারে। এই যে এই বিষয় নিয়ে আপনার ইমোশনটা, সঠিক কাজটা করা, একটা মেয়ে হয়ে আরেকটা মেয়েকে প্রটেক্ট করতে চাচ্ছেন- এটাকে ব্যবহার করে যারা ভিডিও বানায় মনিকা কবীরের মতো, এই কন্টেন্টগুলোকে বলা হয় রেইজ বেইট।”

“মনিকার ভিডিওগুলো কিন্তু করে তার মা। এটা প্রথম বা দ্বিতীয় বার নয়—ছয়বারের মতো এমন ভিডিও আপলোড হয়েছে। এগুলো সবই রেইজ বেইটিং কনটেন্ট।” যোগ করেন তিনি।

মনিকার মায়ের ভূমিকা বিশ্লেষণ করে এই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বলছেন, “সে রাশিয়া থেকে এসে বাংলাদেশে এগুলো করছে, এটা সমস্যা নয়; সমস্যা হলো যখন তার মা ভিডিও করে, তিনি এই কন্টেন্টগুলোর প্রডিউসার। আপনি যদি একজন মেয়ে হয়ে থাকেন, এবং আপনাকে কেউ মলেস্ট বা হ্যারাস করতো- তাহলে তার রিয়েকশান কী হতো, তার মুভমেন্ট কী হতো, সে কী অ্যাকশন নিতো? এটা শুধু ভাবুন, এবং পরে তুলনা করে দেখুন তাদের ৬টা কন্টেন্ট- যেখানে মনিকা কবীরের মা একই কাজ করে, তিনি শুধু ক্যামেরা নিয়ে রেডি থাকেন, রেকর্ড করেন।”

ভিডিওর শেষ দিকে সালমান মুক্তাদির মন্তব্য করেন, এ ধরনের কনটেন্টের কারণে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের কণ্ঠস্বর চাপা পড়ে যেতে পারে। “যারা রিয়েল ভিক্টিম, যারা সত্যিই হ্যারাসমেন্টের শিকার—তাদের রাইটস ও ভয়েস কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এমন একজন অ্যাটেনশন সিকিং ব্যক্তির জন্য,” বলেন তিনি।

ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয় এবং পরে তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে লিগ্যাল নোটিশও পাঠানো হয়।

    শেয়ার করুন: