ইকরার মৃত্যুর জন্য তার পরিবারকে দায়ী করলেন তিথি

ইফফাত আরা তিথি
অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরার আত্মহত্যার জন্য পরিবারকেই দায়ী করেছেন অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথি। এক ফেসবুক পোস্টে তিথি বেশকিছু স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছেন। সেই স্ক্রিনশটের সঙ্গে ইকরা ও তিথির আলাপন রয়েছে। সেখানেই ইকরার পরিবারের সঙ্গে ইকরার আলাপের নানা প্রসঙ্গে উঠে আসে। পরিবারের প্রতি ইকরার ক্ষোভ ছিল বলেও দাবি করেন।
ইফফাত আরা তিথির ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
না জেনেবুঝে কথা না বলে, এতই যেহেতু সময় সবার তাহলে সবটা পড়েন। ইকরার সাথে আমার কিছু ক্যাসুয়াল কথা! এইতো কিছুদিন আগের। এইগুলো আপাতত দিলাম। কিছু বিষয় ক্লিয়ার করার জন্য। আরও আছে। আর ফেইক বলার অপশন নাই কারণ কনভার্সেশন তো exist করে। একটা স্ক্রিন রেকর্ডে ভয়েসও আছে। পাবলিকক যা-তা বললেও যারা ইকরার কণ্ঠ চেনে তারা তো বোঝারই কথা। ভেবেছিলাম এইগুলো পাবলিক্যালি দিবো না। প্রশাসনের প্রয়োজন হলে সেখানে দিবো সবার সম্মান রক্ষার্থে। কিন্তু আমাকে যেভাবে হ্যারেস করা হচ্ছে। আর চুপ থাকা গেল না। অলরেডি কিছু জায়গায় অডিও স্টেটমেন্ট দিয়েছিলাম আমি। আর যারা নিজেরা খুব সাধু সাজতেছেন, আপনারা কী সেটার আমলনামাও আছে। শুধু আমার কাছে না। অনেকের কাছেই আছে। যদি আমার কিছু হয়ে যায় তাহলেও যেন সেটা সামনে আসে। আমার বিশ্বাস অ্যাক্টর ইকুইটি, অথবা আরও সংগঠন যা আছে তারা সেগুলো হাতে পেলে সুষ্ঠু বিচার করবে। আর যদি আমাকে মেরে ফেলে হ্যারেজ করে। অনেক মানুষ আছে সেগুলো পাবলিকের সামনে আনার। চাই নাই আপনার সাথের মেয়েগুলোর ঝামেলা করতে! কি আর করার! নিরুপায় আমি। প্রয়োজন হলে সেই আমলনামাও আসবে সামনে।
১. প্রথমেই বলি পরিবারের কথা. একটা মেয়ে যত যাই হোক নিজের বাবা-মাকে নিয়ে তো মিথ্যা বলবে না। আমি উনাদের দোষ দিচ্ছি না। কিন্তু ইকরার মনে ওর পরিবার নিয়েও কষ্ট ছিল। ওর ফিল হতো যে ওর পরিবার ওকে নিজের হালে ছেড়ে দিয়েছে। স্পষ্ট লিখেছে যে , ২০১৮ সালে একবার ও আলাদা হয়ে গিয়েছিল এবং ওর বাবাকে বলেছিল যে ওকে বিদেশে পাঠিয়ে দিতে কিন্তু উনারা সাপোর্ট করে নাই। সেই থেকে ওর মনে একটা ক্ষোভ তাদের নিয়ে, যা থেকে এরপর আর কোনোদিন সে মুখ ফুটে কিছু বলে নাই। এইটা ২০২৬, এবং তার ওই সময়ের পরিস্থিতির জন্য কিছুটা হলেও দায়ী করেছিল পরিবারকে সে নিজেই। মায়ের ব্যাপারেও লিখেছে, স্ক্রিনশটে দেখা যাবে। She mentioned "They are not strong enough to be a girl's parent. পরিবারের অন্য সদস্য নিয়ে বলেছে যে তারা ওর উপর এক্সপেরিমেন্ট করে নিজেদের সন্তানদের প্রেম মেনে নিয়ে ধুমধাম করে বিয়ে দিয়েছে। তাহলে এইটাও খুব ভিত্তিহীন যে কেউ কিছুই জানতো না। কারণ যাই হোক তাদের পরিবারের মেয়ে সাফার করছে বা সংসার করতে চাইছে না। পরিবারের উপর ভরসা বা ডিপেন্ডেসি থাকা প্রয়োজন কিন্তু ওর সেই আস্থাটা ছিল না, সেটা খুবই স্পষ্ট।
২. ওর ছোট বোন এবং বান্ধবী তিশাকে নিয়ে কি লিখেছিল সেটাও আছে স্ক্রিনশটে। তিশার চরিত্র নিয়েও ওর মনে কথা ছিল। আর কাদের কাদের যেন সাফ বললো, কেন বললো আমি তা জানি না। কিন্তু অবাক লাগলো ইকরা এই পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার পর এই ব্যক্তিগুলোই আবার বড় বড় কথা বলছে! আচ্ছা বলুক, ইমোশনাল জায়গা থাকতেই পারে। অস্বাভাবিক কিছুও না। কিন্তু অন্যের দিকে তাকানোর আগে, আর অতীত ঘাটার আগে একটু নিজের অতীতটাও মনে করে নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাকে তিসা মেয়েটার বিষয়ে বলাতে আমি একটু অপ্রস্তুত হই, ভয়ও পাই যে আবার আমাকে ইচ্ছা করে তিশার গল্প শুনাচ্ছে নাকি, আবার মনে হয় শুরু হলো। (কারণ অনেক আগে একবার কথা-কাটাকাটি হয়েছিল আমাদের) আমিও মনের মধ্যে না রেখে ডিরেক্ট প্রশ্ন করি। কারণ Misunderstanding চাই নাই আর। ও সেটা ক্লিয়ার করে এবং এরপর আবার নরমাল কথা শুরু হয়ে যায়।
৩. কিছু স্ক্রিনশট আছে যেখানে ওর সাংসারিক বিষয় নিয়ে ডিপ্রেশনের জায়গাটা বোঝা যায় এমন কথা বলেছে। যেহেতু আমি সংসার ভাঙতে চেয়েছি এমন কথা উঠে এসেছে, তাহলে একটু দেখেন ওর এই ধরনের কথাগুলোর রিপ্লাই আমি কিভাবে দিয়েছি। নিজেরাই দেখেন। ইনফ্যান্ট ওকে কাজ করার জন্য, নিজের পায়ের নিচের মাটি শক্ত করার, ওর গ্রুপ নিয়ে অ্যাক্টিভ থাকার জন্য বরাবর ইন্সপায়ার করেছি। আমি ওর এত ক্লোজ কেউ ছিলাম না, ওর হাসবেন্ডের বন্ধু এবং কো-আর্টিস্ট ছিলাম। মনে হয়েছিল কাজে ব্যস্ত থাকলে মানসিকভাবে সুস্থ ফিল করবে। যতটুকু নিজের বাউন্ডারি মেইন্টেইন করে বলার, বোঝানোর বুঝিয়েছি। কারণ একটাই যে কারো সংসার ভাঙার ইচ্ছা আমার ছিল না। ও কয়েকবারই আমাকে বলেছে ও USA চলে যাবে, আমার রিপ্লাই বরাবরই ছিল "এহ, বললেই হবে! চাইলেও যেতে পারবা না, you love him. You are queen, you are his queen." তাহলে আত্মহত্যার জন্য উসকানি আমি কেমন করে দিবো? আর যাই বলেন, এইটা বলতে পারেন না যে ওকে নিজের জীবন নিয়ে নেওয়ার জন্য উস্কে দিয়েছি। সে তার নিজের জীবন নিজে নিয়েছে, সন্তানটার কথা একটাবার মা হয়ে ভাবলে আজকে এই জীবনটা থাকতো। মা হওয়ার পর এইটাই তো সবচেয়ে বড় পরিচয়। ওর জীবনের মায়া, সন্তানের মায়া থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, ওর কষ্ট বা সাফারিংকে ছোট করছি না, কোনোদিন করবো না, কিন্তু ও যে মা এমন একটা ডিসিশনের আগে যদি একটু ভাবতো!
৪. একজন ফ্রেন্ড নাহ ছোটবোন বলেছে আমাকে ওর বাসায় নিয়ে গেছে এইটা বোঝাতে, কথা বলতে, মিটিং করতে যে আমি মিস্ট্রেস, আর ও বউ। অথচ ওর বাসায় গিয়েছি একবার, তাও একসাথে পার্লার গিয়েছিলাম সেখান থেকে বাসায়। বাসায় ফিরে জানাতে বলেছিল, জানানোর পর আমি লিখেছিলাম আড্ডা দিয়ে ভালো লেগেছে, সেও একি কথা বলে। স্ক্রিনশটের কোনো জায়গায় মনে হয়েছে যে আমাদের মধ্যে কোনো কড়াকড়ি সিচুয়েশন চলছে? দেখা হওয়ার আগ মুহূর্তের ভয়েসও আছে। কণ্ঠ বা কথার ধরনে এমন লাগে যে আমাদের মধ্যে কঠিন সিচুয়েশন? ইভেন "আমি তো তোমাকে বলতেছি বিয়েটা করো" এতগুলোও বলতো মাঝেমধ্যে। আমার রিপ্লাই দেখেন। বলছি যে তুমি ডিভোর্স দাও, আমি আলভীকে বিয়ে করবো? বলছি তোমার জন্য পারতেছি না? নিশ্চয়ই না। উল্টা ওকে বোঝায়েছি যেভাবে পারসি। তাহলে ওকে আমি কেন আত্মহত্যার মতো এত জঘন্য কাজের জন্য উসকানি দিবো?
৫. আরো আছে ক্যাসুয়াল কথা, যেমন ওকে জন্মদিনে গিফট দিয়েছিলাম, ও একটা জিনিস খোঁজ করেছিল আমার কাছে। এরপর সেটার সন্ধান না দিয়ে আমি গিফট করেছিলাম। যখন ও হাসবেন্ড ও সন্তানের সাথে ট্রিপে মালয়েশিয়া যায় (সেটাও বেশিদিন আগে না।) ও আমাকে সেটার ছবি তুলে THANK YOU জানায়। সেই ট্রাইপড দিয়ে নিজের ছবি তুলে সেটাও পাঠায়। আমি ওকে জানাই খুব সুন্দর লাগছে। সুন্দরবনে শুটিংয়ে যাওয়ার সময় (সেখানেও আলভি ছিল এবং একটা লং আউটডোর ছিল।) ও আমাকে বলে সাবধানে থেকো তোমরা, ও তখন যাচ্ছিলো ওর বাবার বাড়িতে তাই আমিও ওকে সাবধানে যেতে বলি। আমাদের অনেক কথাও হয়েছিল। ভূমিকম্পের আতঙ্কে অনেকক্ষণ কথা হয়েছিল। এইভাবে কথা চলতে থাকলে আমার কি এইটা ভাবাটা স্বাভাবিক না যে She is fine now আগে যতই সিনক্রিয়েট করুক বা ভুল-বোঝাবোঝি হোক?
৬. 31st এর আগে ও নিজেই আমাকে বলে চলো আমরা দুইজন নেপালে যাই। LOD যাবো। আরো আছে কথা, যেগুলা এখানে নাই যে আমরা ভিয়েতনাম যাবো একসাথে। যেহেতু আমরা দুইজনই ট্রাভেল করতে পছন্দ করতাম।
৭. ১৬ ডিসেম্বরও ও নিজে থেকে আমার সাথে দেখা করতে চায়। ব্যস্ত থাকার পরেও আমি ওর সাথে দেখা করতে যাই আলভির (Kings production) অফিসে, আলভি ছিল না। টিমের দুই-একজন ছিলো আর আমি গিয়ে পরে জয়েন করলাম। শুধু আমাকে বলেছিল ওর ভাল্লাগতাছে না, আসো চিল করি। আমি সেটাকে প্রাধান্য দিয়েছিলাম।
৮. একজন ডিরেক্টর নিয়ে আমাদের একটু দুষ্টামি কথাও হয়। কালাজাদু নাহ কি নিয়ে যেন, দেখেন সেই ব্যক্তি নিয়ে ইকরা নিজে কি লিখেছে। ওদের উপর নাকি করেছে। ওইসময় আলভি-ইকরা দুজনেরই নিজেদের সেটা থেকে প্রোটেক্ট করতে হয়েছিল। সামনাসামনি এইগুলো নিয়েও আমাদের আরো কথা হয়েছিল।
যাইহোক ইকরা ওর পারসোনাল কথা অনেকের সাথেই শেয়ার করতো, ওর মনে যখন যেটা চলতো, ওর যে ভাবনা সেগুলো বলতো যাকে এপ্রোপিয়েট পেতো তাকেই বলতো। আল্লাহ ওকে ভালো রাখুক। শান্তিতে রাখুক। ওর এই চিরনিদ্রা শান্তির হোক। আর দূর থেকেই রিযিককে এত দোয়া করুক যাতে রিযিকের জীবনটা সুন্দর হয়।

