আগামীর সময়

দেশে ফিরলে আমাকে মেরে ফেলা হবে: জাহের আলভী

দেশে ফিরলে আমাকে মেরে ফেলা হবে: জাহের আলভী

অজ্ঞাত স্থান থেকে ভিডিও বার্তায় অবশেষে আত্মপক্ষ সমর্থন করলেন ছোটপর্দার অভিনেতা জাহের আলভী। স্ত্রীর আত্মহনন এবং জানাজায় উপস্থিত না থাকার কারণে ইতোমধ্যেই জনমনে ‘খলনায়ক’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন তিনি। তবে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে ভেঙে পড়া কণ্ঠে একের পর এক বিস্ফোরক দাবি তুলেছেন এই অভিনেতা।


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় আত্মহননের পথ বেছে নেন আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাত খান ইকরা। এরপর থেকেই সহশিল্পীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ, দাম্পত্য কলহ এবং নানা গুঞ্জনে সরগরম শোবিজ অঙ্গন। এমনকি ইকরার জানাজা ও দাফনে অনুপস্থিত থাকাও তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। এ ঘটনায় রাজধানীর পল্লবী থানায় আলভী, তার মা ও কথিত প্রেমিকার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।


দেশে ফিরলে মব করে মেরে ফেলা হবে


সোমবার (২ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিওতে আলভী বলেছেন,আপনারা কি চান আমি রিজিকের মায়ের কাছে চলে যাই? তাহলে রিজিকের কী হবে? একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দেশে ফিরলেই তার ওপর ‘মব’ হামলার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেছেন, আমার ফোনে অসংখ্য থ্রেটস আসছে। আমার কাছে তথ্য আছে, এয়ারপোর্টে লোক ফিট করা আছে। আমি ঢুকলেই আমাকে হিট করা হবে, মেরে ফেলা হবে।


জানাজায় না আসার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এমন ছিল যে দেশে ফেরাটা তার জন্য নিরাপদ ছিল না। তার ভাষ্য, আপনারা কি আমার দেশে ফেরার অবস্থা রেখেছেন?


নেপাল থেকে ফেরার চেষ্টা, টিকিট না পাওয়ার অভিযোগ


নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নেপাল প্রসঙ্গও তোলেন আলভী। তিনি বলেছেন, অনেকে বলছেন নেপাল কি মঙ্গলগ্রহ? আমি নেপালে ১৮ বার গেছি। জানি কত সময় লাগে। সেদিন কোনো চেষ্টা বাদ রাখিনি। ডিরেক্ট ফ্লাইট ছিল না, ট্রানজিট ফ্লাইটে এলে পরদিন পৌঁছাতে হতো। টিকিট ম্যানেজ করতে পারিনি। পরদিন ইমিগ্রেশন ক্রস করার পর জানতে পারি, এয়ারপোর্টে ঢুকলেই অ্যাটাক হবে।

এই আশঙ্কার কারণেই দেশে প্রবেশ না করার সিদ্ধান্ত নেন বলে দাবি করেন তিনি।


শুরু থেকেই সম্পর্কটা টক্সিক ছিল


ইকরার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আলভী বলেছেন, শুরু থেকেই ইকরা অনেক সন্দেহপ্রবণ ছিল। আমাদের সম্পর্কটা টক্সিক ছিল। তিথির সঙ্গে পরিচয়েরও আগে থেকে। ইকরা অনেক আগে থেকেই ডিভোর্স চাইত, আমি চাইনি।

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নেপাল প্রসঙ্গও তোলেন আলভী।


স্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘বদ-অভ্যাস’-এর অভিযোগও তোলেন তিনি। তার দাবি, ইকরা তার কারণে নয়, বরং কমন সার্কেলের কিছু মানুষের প্রভাবে ‘ট্রিগারড’ হয়েছেন। আমি ইকরাকে আত্মহত্যা করতে ট্রিগার করিনি। কিছু ভাই-ব্রাদার দিনের পর দিন ওকে উসকানি দিয়েছে।


মামলা, প্রশ্ন আর বিতর্ক


ইকরার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে ময়মনসিংহের ভালুকায় মায়ের গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। এদিকে অপমৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের হওয়ায় বিষয়টি এখন আইনি প্রক্রিয়ায়।

    শেয়ার করুন: