বাবার লিগ্যাসিকে অনুপ্রেরণা মনে করেন নাগা চৈতন্য

নাগার্জুন ও নাগা চৈতন্য
২০০৯ সালে 'জোশ' সিনেমায় একজন প্রাণবন্ত কলেজ ছাত্র হিসেবে অভিনয় জগতে পা রাখেন নাগা চৈতন্য। কিংবদন্তি অভিনেতা আক্কিনেনি নাগেশ্বর রাওয়ের নাতি এবং মেগাস্টার নাগার্জুনের ছেলে হিসেবে প্রত্যাশার চাপ থাকাটা স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু দীর্ঘ ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে চৈতন্য প্রমাণ করেছেন যে তিনি এই উত্তরাধিকারকে কোনো বোঝা হিসেবে দেখেন না।
হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাগা চৈতন্য জানান, তিনি তার বাবার বিশাল সাফল্যকে নিজের জন্য কোনো ধরাবাঁধা মাপকাঠি মনে করেন না, বরং একে দেখেন অনুপ্রেরণা হিসেবে। তার মতে, নিজের একটি আলাদা পরিচয় এবং নিজস্ব ঘরানার গল্প তৈরি করাই তার মূল লক্ষ্য। ‘ইয়ে মায়া চেসাভে’ থেকে শুরু করে ‘লাভ স্টোরি’ বা ওটিটি অভিষেক ‘ধূতা’ প্রতিটি কাজই তাকে অভিনেতা হিসেবে পরিণত করেছে। বিশেষ করে ‘লাভ স্টোরি’ সিনেমাটি তার জীবনের অন্যতম কঠিন ও সার্থক কাজ বলে তিনি উল্লেখ করেন, যা তাকে মানসিকভাবে অনেক ঋদ্ধ করেছে।
সিনেমায় অভিনয়ের ক্ষেত্রে চৈতন্য সবসময়ই বাণিজ্যিক সাফল্য এবং গভীর গল্পের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেন। তিনি এমন স্ক্রিপ্ট পছন্দ করেন যা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে আবার যার মধ্যে শৈল্পিক গুণও থাকবে। মজার বিষয় হলো, একজন অভিনেতা হিসেবে তার সবথেকে বড় ভয় হলো একই ধরনের চরিত্রের পুনরাবৃত্তি। এই একঘেয়েমি কাটানোর জন্যই তিনি নিয়মিত নতুন নতুন চরিত্রে নিজেকে ভেঙে গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। সম্প্রতি বিয়ে এবং নতুন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি তার লক্ষ্য এখন এমন কিছু চরিত্র তৈরি করা যা সিনেমা হলের পর্দার বাইরেও দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চৈতন্য জানান, এখনই পরিচালনা করার কোনো ইচ্ছে তার নেই। তবে পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করার প্রতি তার প্রবল ঝোঁক রয়েছে। তিনি খুব শীঘ্রই চলচ্চিত্র প্রযোজনায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং এ নিয়ে কাজও শুরু করে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে নাগা চৈতন্য এখন কেবল বাবার পরিচয়ে পরিচিত কোনো উত্তরসূরি নন, বরং নিজ যোগ্যতায় ভারতীয় সিনেমার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার দৌড়ে অবিচল রয়েছেন।
সূত্রঃ হিন্দুস্তান টাইমস

