এলআরবির ৩৫ বছর
আইয়ুব বাচ্চু ছাড়া কোন পথে কিংবদন্তি ব্যান্ড?

ব্যান্ড এলআরবির সদস্য
নব্বইয়ের দশক থেকে আজকের দিন পর্যন্ত বাংলাদেশের রক মিউজিক শ্রোতাদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় গানের ব্যান্ড ‘এলআরবি’। এই জনপ্রিয় ব্যান্ড এলআরবি আজ ৩৫ বছর পার করলো।
এলআরবির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, ১৯৭৮ সালে ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডের মাধ্যমে সঙ্গীত জগতে যাত্রা শুরু করেন আইয়ুব বাচ্চু। এরপর ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর তিনি যুক্ত ছিলেন ব্যান্ড ‘সোলস’ এর সাথে। সোলস ছাড়ার পর লাভ রানস ব্লাইন্ড বা ‘এলআরবি’ ব্যান্ড ১৯৯১ সালের ৫ই এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আইয়ুব বাচ্চুর হাত ধরে।
তবে ব্যান্ডটির প্রথম নাম এলআরবি নয় বরং ছিল ওয়াইআরবি ইয়েলো রিভার ব্যান্ড।
সে সময় একটি ক্লাবে পারফর্ম করার সময় সেখানকার উদ্যোক্তারাভুল করে ব্যান্ডটির নাম লেখেন লিটল রিভার ব্যান্ড। সেই ভুলটাই আইয়ুব বাচ্চুর পছন্দ হয়ে যাওয়ায় ব্যান্ডটি পরিচিতি পায় এলআরবি নামে।
শুরুটা হয়েছিল ইংরেজি গানের কভার থেকে। তারপর রক, সফট রক, হার্ড-রক, ব্লুজ, অল্টারনেটিভ রক, মেলোডি- এমন নানা জনরার গানের সাথে শ্রোতাদের পরিচয় হতে থাকে এই ব্যান্ডের মাধ্যমে। তখন আইয়ুব বাচ্চুই ছিলেনে এই ব্যান্ডটির গায়ক, লিড গিটারিস্ট, গীতিকার ও সুরকার।
বাংলাদেশে এলআরবি প্রথম কোন ব্যান্ড যারা নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক মেডিসন স্কয়ার গার্ডেনে শো করেছে। এছাড়া ভারত, অস্ট্রিয়া, ব্রিটেন, জার্মানি, সিঙ্গাপুর, কাতার, দুবাইসহ আরও বহু দেশে কনসার্ট করেছে জনপ্রিয় এই ব্যান্ড।
এলআরবির প্রায় প্রতিটি অ্যালবাম সুপারহিট হওয়ায় রাতারাতি তারা জনপ্রিয়তা শীর্ষে উঠে যায়। এমনও হয়েছে যে অ্যালবাম বাজারে আসতে দেরি হওয়ায় শ্রোতাদের অসংখ্য ফোন পেতে হয়েছে রেকর্ড বিক্রেতাদের। তবে ২০১৮ সালের ১৮ই অক্টোবর ব্যান্ডটির প্রতিষ্ঠাতা আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর পর ব্যান্ডের ভেতরে নেতৃত্বের শূন্যতা সৃষ্টি হওয়ায় এই এলআরবি'র ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর কার্যক্রম এক প্রকার থমকে আছে।
প্রায় সাড়ে তিন দশকের পুরান এই ব্যান্ডটি কবে আবার পুনর্দমে চালু হবে সেটা নিয়েও ছিল ধোঁয়াশা; তবে ফের পুরোদমে ফেরার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা যায় এই ব্যান্ড সংষ্টদের কাছ থেকে। ব্যান্ডটির প্রতিষ্ঠাতাসদস্য এবং বেইজ গিটারিস্ট স্বপন, ড্রামার রোমেলকে নিয়ে 'এলআরবি'র নতুন লাইনআপ সাজানোর চেষ্টা করছেন।
এলআরবি-র ৩৫ বছর হলো এক অদম্য লড়াই, সৃজনশীলতা এবং কোটি ভক্তের ভালোবাসার গল্প। আইয়ুব বাচ্চু না থাকলেও, তার সুরের মাঝেই এলআরবি বেঁচে থাকবে অনন্তকাল। শুভ জন্মদিন, এলআরবি।



