মারা গেছেন ‘গডফাদার অফ হিপ-হপ’ খ্যাত আফ্রিকা ব্যামবাটা

বিশ্বজুড়ে হিপ-হপ সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দেওয়ার অন্যতম কারিগর আফ্রিকা ব্যামবাটা আর নেই। ১৯৫০ এর দশকে ব্রঙ্কসে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী কেবল একজন মিউজিশিয়ান ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন হিপ-হপকে শান্তি, ঐক্য ও ভালোবাসার হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলার মূল কারিগর। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আফ্রিকা ব্যামবাটার আসল নাম ল্যান্স টেলর। কিশোর বয়সে তিনি ব্রঙ্কসের ভয়ংকর ‘ব্ল্যাক স্পেডস’ গ্যাংয়ের সদস্য ছিলেন। তবে তিনি নিজের নেতৃত্ব গুণকে ব্যবহার করে ১৯৭৩ সালে গড়ে তোলেন ‘ইউনিভার্সাল জুলু নেশন’। এর মূল লক্ষ্য ছিল তরুণদের গ্যাং ভায়োলেন্স বা সংঘাত থেকে সরিয়ে সৃজনশীলতা ও সংস্কৃতির দিকে নিয়ে আসা। তার হাত ধরেই ব্রঙ্কস হয়ে ওঠে হিপ-হপ সংস্কৃতির তীর্থস্থান।
১৯৮২ সালে তার মুক্তিপ্রাপ্ত গান ‘প্ল্যানেট রক’ বিশ্বজুড়ে হিপ-হপ মিউজিকের ধারা বদলে দিয়েছিল। এই গানের মাধ্যমেই ইলেকট্রো-ফাঙ্ক এবং হিপ-হপের এক অনন্য মিশেল তৈরি হয়, যা আশির দশকের সংগীতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। তিনি জেমস ব্রাউন থেকে শুরু করে জন লাইডনের মতো কিংবদন্তিদের সাথে কাজ করেছেন এবং বর্ণবাদ বিরোধী নানা আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন।
ব্যামবাটার মিউজিক্যাল ক্যারিয়ার যতটা উজ্জ্বল ছিল, শেষ জীবন ছিল ততটাই বিতর্কিত। ১৯৮০ ও ৯০ এর দশকে তার বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতন এবং পাচারের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। যদিও তিনি সব সময় এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন, তবে এই বিতর্কের জেরে ২০১৬ সালে তিনি ‘জুলু নেশন’ এর প্রধানের পদ থেকে সরে দাড়াতে বাধ্য হন। এমনকি ২০২৫ সালে একটি দেওয়ানি মামলায় আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।
হিপ-হপ অ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক রেভারেন্ড ড. কার্টিস ব্লো ওয়াকার জানিয়েছেন, ব্যামবাটার জীবন ও কাজ নিয়ে অনেক বিতর্ক থাকলেও হিপ-হপকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে তার অবদান অনস্বীকার্য।



