আগামীর সময়

স্ত্রী ইকরার মৃত্যু নিয়ে ভয়াবহ তথ্য সামনে আনলেন আলভী

স্ত্রী ইকরার মৃত্যু নিয়ে ভয়াবহ তথ্য সামনে আনলেন আলভী

স্ত্রীর মৃত্যুর পর এবার নতুন তথ্য নিয়ে সামনে এলেন অভিনেতা জাহের আলভী। সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করেছেন অভিনেতা। যদিও ফেসবুকের পোস্টটিকে শেষ পোস্ট হিসেবে দাবি করেছেন অভিনেতা।

এই মৃত্যুর পেছনে ইকরার পরিবারও যে দায়ী এমন কথাও উঠে এসেছে।


আলভী শুরুতেই লিখেছেন এভাবেই, এটাই হয়তো আমার শেষ পোস্ট । একটু সময় নিয়ে পড়বেন । আইনের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি , সুষ্ঠু বিচারে আইন আমার বিরুদ্ধে যে ‍পদক্ষেপ নিবে আমি মাথা পেতে নিব। কিন্তু আমার এই পোস্টে আমি কিছু ইনফরমেশন রেখে যেতে চাই , যেন আমার কিছু হলে  অথবা আমাকে অন‍্যায়ভাবে ফাঁসানো হলে সাধারণ জনগণ ও সাংবাদিক ভাই-বোনেরা এই বিষয়গুলো নিয়ে সতর্ক থাকেন এবং আইনের কাছে খতিয়ে দেখার দাবি রাখতে পারেন।

এরপর চারটি পয়েন্ট উল্লেখ করেছেন তিনি। এতে সিসিটিভি ফুটেজ, বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে অস্বাভাবিক জীবনযাপন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন নাটকের এই অভিনেতা। এই পয়েন্টগুলো হলো-

১. আমার বাসায় ড্রইং-কাম-ডাইনিংয়ে একটি সিসিটিভি ক‍‍্যামেরা আছে। যার এক্সেস কখনোই আমার কাছে ছিল না। ইকরার ফোনে ছিল। ইকরার ফোন পুলিশি হেফাজতে আছে এবং এই মূহূর্তে তা ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে। অনেকেই বলবেন , আমার বাসার সিসিটিভির এক্সেস আমার কাছে ছিল না এটা বিশ্বাসযোগ‍্য নয় , তাদের বলবো সিসিটিভির সঙ্গে লিংকড ডিভাইস লিস্ট চেক করলে সেটি অনায়সে বেরিয়ে আসবে । আমি সারাদিন শুটিংয়ে থাকার কারণে আমি কখনো এর এক্সেস ইকরার কাছেও চাইনি। ইকরা এই ক‍‍্যামেরা দিয়ে বাসার কাজের লোক ও বাসায় থাকা আমার সহকারীর গতিবিধি লক্ষ করত প্রয়োজনমতো।  এই সিসিটিভি ফুটেজ দুর্ঘটনার সবচেয়ে বড় আলামত। শুধু দুর্ঘটনার সময় না , আমি নেপাল আসারদিন থেকে রয়েছে এই ক‍্যামেরায় গুরুত্বপূর্ণ ফুটেজ। আবারো বলছি ইকরার মোবাইল (যার পাসওয়ার্ড আমি জানি না) ও সিসিটিভি ক‍্যামেরার মেমোরি কার্ড দুটোই পুলিশের হেফাজতে ।

২. এখন বলবো , কেন সিসিটিভির ফুটেজ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি নেপালের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হই ২৫ তারিখ দুপুরে। ২৫ , ২৬  ও সর্বশেষ ২৭ তারিখ এই ৩ দিনই সন্ধ‍্যার পর আমার বাসায় ইকরার বান্ধবী ও বন্ধুর আগমন ছিল। যার গতিবিধি সিসিটিভিতে আছে । ২৫-২৬ শুধু বান্ধবী এবং ২৭ তারিখ ২ জন বান্ধবী ও ১ জন ছেলে বন্ধু বাসায় এসেছে এবং মধ‍্যরাত পর্যন্ত ছিল। এসময়গুলোতে ৩ দিনই তারা সিগারেট/গাজা ও মদ‍্যপান করেছে। দুর্ঘটনার আগেরদিন ২৭ তারিখ ইকরা আমার সহকারীকে দিয়ে সিগারেট ও ঘুমের ওষুধও আনিয়েছে, ওই সময়ে যা সিসিটিভির নিচেই ইকরাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সমগ্র ভাষ‍্য আমার সহকারীর এবং তা ইতিমধ‍্যেই পুলিশের কাছে স্টেটমেন্ট আকারে পেশ আছে। সাংবাদিক ভাই ও সাধারণ সবাইকে জানিয়ে রাখলাম বিষয়টি যেন সিসিটিভি ফুটেজ থেকে এই ৩ দিনের ফুটেজ কোনোভাবেই সরানো না হয়, আর সরানো হলেও যেন এর সুষ্ঠু জবাবদিহি বা তদন্ত করা হয়। এই ৩ দিন ও দুর্ঘটনার মুহূর্তের ইকরার কথাবার্তা কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের মতো ছিল না। ইকরা এর আগেও ১৫ বছরে একাধিকবার আত্মহত‍্যার চেষ্টা করলেও কখনো সিরিয়াসলি কোনো সংযোগ পাওয়া যায়নি। কিন্তু এবার ইকরা একদমই নরমাল ছিল না ।

৩. ইকরার মোবাইল পুলিশের থ্রুতে ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে। যেখানে স্পষ্ট চলে আসবে কে ইকরার অ্যাকাউন্ট ডিসেবল করেছে। এবং এটিও জানার প্রয়োজন আছে কেন করেছে। আমার সঙ্গে ইকরার কনভার্সেশনের একটি দাড়ি-কমাও পরিবর্তিত হয়নি সেটি আমার ফোন ফরেনসিকে নিলে প্রমাণ মিলবে। যেটা আমি  স্বেচ্ছায় পুলিশের কাছে দিবো । সবাইকে এই দিকটাও লক্ষ রাখার জন‍্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে, যেন ইকরার ফোন থেকেও কোনো কনভার্সেশন ডিলিট না হয়। যেমন- ম্যাসেঞ্জার, whatsapp বা অন্যান্য অ্যাপ. যেগুলো আছে। এমনকি ফোনের ইনকামিং ও আউটগোয়িং কল লিস্ট এবং ২৫/২৬/২৭ তারিখ রাতে ওর বন্ধুদের সঙ্গে বাসায় আসা এবং চিল করা নিয়ে কনভার্সেশন ।

৪. এবার আসেন , পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়ে কিছু কথা। আগের রাতে মদ‍্যপান ও ড্রাগ্স সেবন করা হলে অবশ‍্যই সেটি পোস্টমর্টেম রিপোর্টে সেটি আসবে। সো, কোনোভাবেই এই রিপোর্ট যেন পরিবর্তন না হয় সেদিকেও একটু নজর রাখার জন‍্য অনুরোধ করা হচ্ছে। কারণ পোস্টমর্টেম করার আগে পোস্টমর্টেমে বাধা দেওয়া হচ্ছিল।


পোস্টের শেষভাগে এসে তিনি আরো দুটি সূত্র উল্লেখ করেছেন। এই সূত্র জাহের আলভী বলছেন, ইকরার সঙ্গে তার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরেও, তার পরিবার ইকরাকে অন্যত্র বিয়ে দেয়।

অভিনেতা আলভী এখানে লিখেছেন,   চাইতেও নিম্নে কিছু সংবেদনশীল হিন্টস রেখে যাচ্ছি যেগুলো আপনাদের সামনে এই মানুষটিকে নিয়ে বিস্তারিত বলতে আমার জন‍‍্য কষ্টদায়ক। আফটার অল ইকরা আমার স্ত্রী।

১. আপনাদের মতে, আমার না হয় তিথীর সঙ্গে পরকীয়া , তাহলে ইকরার ব‍্যাচমেট জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি, ফিলোসফি ডিপার্টমেন্টের ৪১তম ব‍্যাচের "নাবিদ"-এর সঙ্গে ইকরার কি।

২. ২০১০-এ পালিয়ে বিয়ে করে দুই পরিবারের কাছে ধরা খাওয়ার পর ইকরা আমার বিবাহিত স্ত্রী থাকার পরেও ইকরার পরিবার ইকরাকে ইকরার সম্মতিতে আরেক জায়গায় বিয়ে দিয়ে দেয়। হ‍্যাঁ , আমার স্ত্রী থাকা অবস্থায় ইকরা আরেকটি বিয়ে করে , বাসর করে। আমাকে ডিভোর্স না দিয়ে তার পরিবারের সম্মতিতে। তবে ভুল বুঝতে পেরে যখন ইকরা আমার কাছে ফিরে আসতে সিদ্ধান্ত নেয়, আমি তাকে মাফ করে বুকে পাথর রেখে মেনে নিই । একজন স্বামী হয়ে এই সিচুয়েশন বয়ে বেড়ানো খুব একটা সুখের না আবশ‍্যই ।

শেষে অভিনেতা আলভী বলছেন, উপরের কোনো কিছুই এটা প্রমাণ করে না যে , ইকরা আমাকে ভালোবাসতো না। ইকরা আমাকে ভয়ংকর ভালোবাসতো। আমিও বাসতাম। ত‍্যাগ ওর যেমন ছিল, আমারও ছিল। যুদ্ধ দুজনেরই করতে হয়েছে। ভুল-ত্রুটি, ঝগড়া , কলহ আর সব সংসারের স্বামী-স্ত্রীর মতো আমাদেরও ছিল। কিন্তু সময়ের কালক্রমে ভালোাবাসাটা মায়ায় রূপ নেয়। মায়া, অভ‍্যস্ততা ও সন্তানের সেতুবন্ধন- সবকিছুকে ছাপিয়ে ভালোবাসার জায়গাটায় আসন গেড়ে বসেছিল ।

    শেয়ার করুন: