সুনামগঞ্জের ঘটনাকে ‘হিন্দু নারীর ওপর হামলা’ বলে ভুয়া প্রচার

ছবিঃ আগামীর সময়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, সুনামগঞ্জে “উগ্র মুসলিমরা” একজন হিন্দু নারীর ঘরে হামলা চালাচ্ছেন। তবে যাচাই করে দেখা গেছে, এই দাবি সম্পূর্ণ ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিডিওতে দেখা নারী হিন্দু নন; তিনি একটি মুসলিম পরিবারের সদস্য। কী-ওয়ার্ড সার্চে মূলধারার সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো ও বাংলানিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়। বাংলানিউজে প্রকাশিত একটি ছবির সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওটির স্থিরচিত্রের হুবহু মিল পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কুর্শি গ্রামে আব্দুল খালিকের ছেলে আলী হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ভিডিওতে থাকা নারী মোহাম্মদ তারেক মিয়ার স্ত্রী।
জানা যায়, গরু চুরির অভিযোগে তার পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এর জেরে স্থানীয় গ্রামবাসীর একটি দল বাড়িটিতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। হামলার সময় ওই নারী একটি ধারালো অস্ত্র হাতে নিয়ে নিজের সন্তান ও সম্পত্তি রক্ষায় বাড়ির সামনে অবস্থান নেন।
এ বিষয়ে উপপরিদর্শক (এসআই) রহমান প্রথম আলোকে জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। তিনি বলেন, বারবার এমন ঘটনার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা গণপিটুনির মতো ঘটনা কোনোভাবেই বৈধ নয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সুতরাং, সুনামগঞ্জের ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে “উগ্র মুসলিমদের দ্বারা হিন্দু নারীর ওপর হামলা” বলে যে দাবি ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর। প্রকৃতপক্ষে এটি গরু চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট উত্তেজনার ঘটনা, যার সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার কোনো সম্পর্ক নেই।

