আগামীর সময়

খামেনির মৃত্যু নিয়ে বিভ্রান্তি: রাশিয়ান গোয়েন্দা সংস্থার নামে অপপ্রচার

খামেনির মৃত্যু নিয়ে বিভ্রান্তি: রাশিয়ান গোয়েন্দা সংস্থার নামে অপপ্রচার

ছবিঃ আগামীর সময়

গত ১ মার্চ সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম ও ফার্স নিউজ এজেন্সি নিশ্চিত করে।

তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, রাশিয়ান গোয়েন্দা সংস্থা বলেছে- “খামেনির মরদেহের ছবিটি ভুয়া, তিনি বেঁচে আছেন এবং সমুদ্রে একটি সাবমেরিনের নিচে আত্মগোপনে রয়েছেন।”

অনুসন্ধানে দেখা যায়, এ ধরনের কোনো মন্তব্য রাশিয়ার কোনো গোয়েন্দা সংস্থা করেনি। বরং রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিবৃতিতে খামেনিকে নিহত হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই সামাজিক মাধ্যমে এ দাবিটি প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত দাবিসংবলিত বিভিন্ন পোস্ট পর্যালোচনা করে দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র বা তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি গুগলে প্রাসঙ্গিক কী–ওয়ার্ড অনুসন্ধান করেও রাশিয়ান গোয়েন্দা সংস্থা এমন দাবি করেছে- এমন কোনো বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে রাশিয়ান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ১ মার্চ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, মস্কো গভীর শোক ও ক্ষোভের সঙ্গে ইরান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ ও আধ্যাত্মিক নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তার পরিবারের সদস্য এবং উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হওয়ার খবর গ্রহণ করেছে। রাশিয়া এ ঘটনাকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা জানায় এবং এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে।

বিবৃতিতে চলমান উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে পরিস্থিতি প্রশমনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সনদ এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (NPT) ভিত্তিতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করার কথাও বলা হয়।

এ ছাড়া রাশিয়ান সংবাদমাধ্যম দ্য মস্কো টাইমস- এ ১ মার্চ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে পাঠানো এক বার্তায় খামেনির “গুপ্তহত্যা” নিয়ে শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ইরান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ড মানবিক নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক আইনের সব নিয়মের লঙ্ঘন।

অর্থাৎ রাশিয়ান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রেসিডেন্ট পুতিনের বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, রাশিয়া খামেনিকে নিহত হিসেবেই বিবেচনা করছে। অন্যদিকে রাশিয়ান কোনো গোয়েন্দা সংস্থা খামেনি জীবিত আছেন- এমন দাবি করেছে বলে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, রাশিয়ান গোয়েন্দা সংস্থা খামেনির মরদেহের ছবি ভুয়া এবং তিনি সাবমেরিনের নিচে আত্মগোপনে আছেন- এমন মন্তব্য করেছে বলে প্রচারিত দাবিটি মিথ্যা।

    শেয়ার করুন: