আগামীর সময়

ঈদে নান্দনিক ঘর দেখতে চান? যা করবেন ...

ঈদে নান্দনিক ঘর দেখতে চান? যা করবেন ...

সংগৃহীত ছবি

ঈদ এলেই আত্মীয়-স্বজন আর বন্ধুদের মনে খুশির জোয়ার ছড়িয়ে পড়ে। এই খুশি ও আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে আমরা একে-অন্যের বাড়িতে যাই। ঈদ সামনে রেখে আমাদের কত কী আয়োজন। নিজেদের রঙিন পোশাকে সাজাতে কতকিছু কিনি। ঘর-বাড়ি, আঙিনা পরিষ্কার করি এবং সাজিয়ে তোলার চেষ্টা করি। চলুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে আপনার ঘর হয়ে উঠবে আরও নান্দনিক, আকর্ষণীয়। আপনার ঘর তখনই সুন্দর হয়ে উঠবে যখন মননশীলতা ও সৃজনশীলতার একটি সুন্দর মিশেল তৈরি করতে পারবেন।

দরজা সাজানো

ঘরে ঢোকার প্রধান পথ দরজা। দরজা-জানালা যতটা সাধারণ রাখা যায় দেখতে ততটাই ভালো। তবে দরজা সাজানোর ক্ষেত্রে ছোট ফুল গাছ অথবা পাতা বাহারি রাখা যেতে পারে। ইনডোর প্ল্যান্ট যেমন, স্পাইডার প্ল্যান্ট, মানি প্ল্যান্ট, কয়েন প্ল্যান্ট, বিভিন্ন জাতের ক্যাকটাস ও সাকুলেন্ট ইত্যাদি। প্লাস্টিকের তৈরি কৃত্রিম গাছও ব্যবহার করা যায়। তবে আসল গাছ দেখতে অনেক বেশি সতেজ ও নান্দনিক।

দরজা সাজানোর ক্ষেত্রে পর্দার ব্যবহার বহুল প্রচলিত। এক্ষেত্রে সলিড কালার অথবা প্রিন্টেড পর্দা ব্যবহার ভালো। ইদানিং দরজা, জানালায় সলিড কালারের ট্রান্সলুসেন্ট পর্দা ব্যবহার বেড়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ডিজাইনের কালারফুল পর্দাও বেছে নিতে পারেন। আপনার ঘরের দেওয়ালের রঙ ও দরজার সাথে মানায় এরকম পর্দা বাছাই করুন।

দেয়াল সাজানো

যে ঘরের দেয়াল যতটা সুন্দর ও আকর্ষণীয় সে ঘরে থাকতে ততটাই ভালো লাগে। ঘরের দেয়াল সাজানোর পূর্বশর্ত দেয়ালের জন্য সুন্দর একটি রঙ বাছাই করা। এছাড়া থ্রি ডি ওয়াল স্টিকার, লতানো গাছ, ওয়াল মেট, ফটো ফ্রেম বা পোস্টার বোর্ড ব্যবহার করা যায়। এছাড়া গাছ, পাখি ইত্যাদির ছবি সম্বলিত টু ডি, থ্রি ডি স্টিকার দেয়ালে লাগালে অন্যরকম একটা সৌন্দর্য ফুটে ওঠে।

লাইটিং

বিভিন্ন ডিজাইন ও রঙের লাইট ছাড়া যেন ঘরের আসল সৌন্দর্য ফুটেই ওঠে না। ঘরে রাতের আসল সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার জন্য বাহারি লাইট ব্যবহার করা যায়। এখন বাজারে স্বল্পমূল্যেই এসব লাইট ও সেটাপ কিনতে পাওয়া যায়। এলইডি স্ট্রিপ লাইট, সলিড ও মাল্টিকালার ডিম লাইট, টেবিল ল্যাম্পসহ অনেক ধরনের লাইট পাওয়া যায়। বেলকনি, লিভিং রুম, ডাইনিং রুমে সলিড কালারের ডিম লাইট ব্যবহার করলে অসাধারণ দেখায়। এক্ষেত্রে প্রতিটি ঘরে আলাদা রঙের লাইটও ব্যবহার করা যেতে পারে।

দেয়াল সাজানোর জন্য এলইডি স্ট্রিপ লাইট ও মাল্টিকালারের রুম ডেকোরেটিভ লাইট ব্যবহার করা যায়। সাদা এনার্জি সেভিংস বাল্বগুলোর চেয়ে ঘরে এগুলো ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ বিল কম আসে এবং ঘরটা দেখতে উৎসবমুখর দেখায়।

বিছানার চাদর

অন্য জিনিসের মতো বিছানার চাদর নিয়ে মেয়েদের আগ্রহটা যেন একটু বেশিই থাকে। যেকোনো ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে মানানসই বিছানার চাদর ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। চাদর কেনার আগে অবশ্যই চিন্তা ও কল্পনা করে নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আপনার ঘরের আসবাবপত্রের সাথে মিল রেখে এর নকশা ও রঙ বাছাই করা উচিত।

বিছানার চাদর হবে সাদামাটা ধরনের, এতে বেশি কিছু থাকলে তা বেমানান দেখায়। প্রিন্টেড, হাতের কাজ করা, বাটিক সহ অনেক রকমের বিছানার চাদর পাওয়া যায়। পরিষ্কার করার ঝামেলা এড়াতে চাইলে গাড় রঙের বিছানার চাদর ভালো হবে। ঝামেলা না থাকলে লাইট কালারের বিছানা চাদরও নিতে পারেন তবে তা যেন রুচিশীল হয়।

শৌখিন সামগ্রী

ঘর সাজাতে শৌখিন সামগ্রীর কোনো তুলনা নেই। বিভিন্ন টয়, ফুলদানি, শো পিস, সুন্দর মলাটের বই, কৃত্রিম গাছ, পানির ফোয়ারা, রঙিন মাছের অ্যাকুরিয়াম ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো মন ভালো রাখতে কার্যকরী। কোনো ফার্নিচারের পাশে যদি একটি রঙিন মাছের সুন্দর অ্যাকুরিয়াম থাকে তাহলে দেখতে ভালো লাগে।

কার্পেট ও রাগস

যেকোনো ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে কার্পেট জরুরি উপকরণ। বিভিন্ন নান্দনিক ডিজাইনের কার্পেটগুলো আমাদের ঘরের মেঝেসহ পুরো ঘর সহজেই সুন্দর করে তোলে। এগুলো যেই যুগ যুগ ধরে আমাদের ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে। তাই বাসার মেঝে সাজাতে এগুলোর ব্যবহার রুচিশীলতার পরিচয় বহন করে। এখন বাহারি নকশার হাতের কাজ করা রাগসও কিনতে পাওয়া যায়। সেগুলো দেখতে যেমন সুন্দর, দামও কিছুটা বেশি।

    শেয়ার করুন: