আগামীর সময়

এমপিদের শপথ পড়াতে পারেন সৈয়দ রেফাত আহমেদ

এমপিদের শপথ পড়াতে পারেন সৈয়দ রেফাত আহমেদ

ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো বিরোধী দলের আসনে বসে ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছে জামায়াত। তবে নতুন সরকার গঠন এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কীভাবে শুরু হবে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সংবিধান অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার শুরু নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে। কিন্তু এবার সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন কে সেটা নিয়ে খানিকটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিগত সংসদের স্পিকারের পদত্যাগ এবং ডেপুটি স্পিকার করাবন্দী থাকায় এমন অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

সরকারের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল রবিবার অথবা সোমবার নতুন এমপিদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে। সংবিধান মেনে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি জাতীয় সংসদ ভবনে এমপিদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। সেক্ষেত্রে সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নাম শোনা যাচ্ছে। এরই মধ্যে সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী তাকে প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করার চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানা গেছে। তবে কোনো কারণে সেটি না হলে তিন দিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) তাদের শপথ পড়াবেন। নতুন এমপিদের শপথের জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংসদ সচিবালয়।

সাধারণত ফল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। তবে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া বেসরকারী ফলকে আনুষ্ঠানিক ফলাফল হিসেবে গণ্য করা হয় না। ফলে ওই ফল প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে শপথ নিতেই হবে, এমন বাধ্যবাধকতা নেই।

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হওয়ার পর তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবারই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নব নির্বাচিত এসব সদস্যদের গেজেট হওয়ার কথা। বিকেল ৩টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানান। ফলে গেজেট হয়ে গেলে আগামী তিনদিনের মধ্যেই এমপিদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব ইতোমধ্যে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে যাবে না। গত ৫ ফেব্রুয়ারি এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, সবচেয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যেই ক্ষমতা হস্তান্তর হবে। ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারিতেও হতে পারে, ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে যাবে বলে তিনি মনে করেন না।

সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সংসদ সদস্যদের শপথ আগামীকাল রবিবার অথবা সোমবারই হতে পারে। সে ধরনের প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছে সরকার। এর পরবর্তী দিনের মধ্যেই নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা গঠন হতে পারে। আর নতুন সরকারের মন্ত্রিদের শপথ হবে বঙ্গভবনে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিদের শপথ পড়াবেন। সেজন্য বঙ্গভবনকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের শপথের পর পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে দলনেতা নির্বাচিত হবেন। তারপর দলের নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে বলবেন, আমাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে সংসদে। তখন রাষ্ট্রপতি তাকে সরকারপ্রধান হওয়ার অনুরোধ করবেন। তার পরেই গঠিত হবে নতুন সরকার। নির্বাচনে সর্বোচ্চ আসনপ্রাপ্ত বিএনপির সংসদ নেতা হবেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন এটি অনেকটাই নিশ্চিত।

অতীতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়িয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার। কিন্তু চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরের পরিস্থিতিতে সংসদ নেই, স্পিকারও নেই। ডেপুটি স্পিকারও কারাগারে। এ অবস্থায় দৃষ্টি যাচ্ছে সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের দিকেই। সেখানে বলা আছে, গেজেটে ফল প্রকাশের পর তিন দিনের মধ্যে সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত ব্যক্তি শপথ পড়াবেন। তিনি ব্যর্থ হলে বা না করলে, পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাবেন, যেন তিনিই নির্ধারিত ব্যক্তি।

অর্থাৎ এখানে দুটি পথ খোলা আছে। প্রথমত, রাষ্ট্রপতি শপথ পড়ানোর জন্য কাউকে মনোনীত করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা না হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই এমপিদের শপথ পড়াবেন। এর আগেও সিইসি সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর রেওয়াজ আছে। তবে দ্বিতীয় অপশনে না গিয়ে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যাক্তিকে দিয়েই শপথ পড়নোর কথা রয়েছে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যাক্তি হিসেবে সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নাম ইতোমধ্যেই অনানুষ্ঠানিক প্রস্তাবনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ৫ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমকে বলেন, সরকার দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায়। তাদের সামনে দুটি বিকল্প আছে। রাষ্ট্রপতির মনোনীত কেউ শপথ পড়াতে পারেন, উদাহরণ হিসেবে প্রধান বিচারপতির নামও আসতে পারে।

তিনি আরও বলেন, যদি সেটি না হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারই শপথ পড়াবেন। তবে সে ক্ষেত্রে তিন দিন অপেক্ষার বিষয় আছে। সরকার আসলে অপেক্ষা করতে চায় না, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চায়।

    শেয়ার করুন: