আগামীর সময়

দুঃসময়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব আমার পাশে ছিল : রাষ্ট্রপতি

দুঃসময়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব আমার পাশে ছিল : রাষ্ট্রপতি

ফাইল ছবি

রাষ্ট্রপতির নড়বড়ে সময়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল। বিশেষ করে দলটির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুবই আন্তরিক ছিলেন। সম্প্রতি দৈনিক কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটিই জানালেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

অন্তর্বর্তী সরকারে দেড় বছর তাকে নিয়ে নানা চক্রান্ত হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা চিরতরে ধ্বংস করার এবং সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করার অনেক পাঁয়তারা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমি দৃঢ়চিত্তে আমার সিদ্ধান্তে অবিচল ছিলাম। যে কারণে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হয়নি। বিশেষ করে অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে উপড়ে ফেলার অসংখ্য ছক ব্যর্থ হয়েছে। শত বাধার মধ্যেও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করার সিদ্ধান্তে অবিচল ছিলেন বলে জানান রাষ্ট্রপতি।

কঠিন সেই সময়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব পাশে ছিল উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাঁরা তখনো সংবিধানের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেছেন। বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে আমার মনের মধ্যে অনেক কৌতূহল জমা ছিল। কিন্তু আমি পর্যায়ক্রমে বুঝতে পারলাম, তিনি খুবই আন্তরিকতাপূর্ণ মানুষ। হি ওয়াজ সো কর্ডিয়াল! আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল।

গণ-অভ্যুত্থানের কিছু নেতার চাপে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানালেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারও একটা সিদ্ধান্তে এসেছিল। সেটা হলো, যদি রাজনৈতিক দলগুলো চায় আমি অপসারিত হই, তাহলেই শুধু আমি অপসারিত হতে পারি; নচেৎ নয়। পরে দেখা গেল যে এই ইস্যুতে দুটি গ্রুপ হয়ে গেল। গ্রুপে গ্রুপে মিটিং হলো, আলোচনা হলো। তারা বিভিন্ন দল ও জোটের কাছে গেল। তখন এ রকম একটা অবস্থা ছিল—যেকোনো মুহূর্তে মেজরিটি হয়ে গেলেই আমি অপসারিত হয়ে যাব বা আমার মনস্তাত্ত্বিক দিক ভেঙে যাবে। তখন তারা আমাকে অনুরোধ করবে পদত্যাগের জন্য।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, কিন্তু বিএনপি থেকে উচ্চপদে আসীন নেতা আমাকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন যে, ‘আপনার প্রতি আমাদের সমর্থন আছে। আমরা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখতে চাই। কোনো অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের পক্ষে আমরা নই। আমি বলব যে বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা একটা গ্রুপ হয়ে যায়। আর আরেকটা গ্রুপ হয়ে যায়, তাদের আপনারা সবাই চেনেন। তবে তারা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। উদ্যোগটা ব্যর্থ হলো বিএনপি ও তাদের জোটের কারণে।

এরপর অন্তর্বর্তী সরকারও তাকে উচ্ছেদের চেষ্টা করেছে বলে জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, একটা অসাংবিধানিক উপায়ে একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে এসে আমার জায়গায় বসানোর চক্রান্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। তিনি আরও জানান, সরকারের পক্ষ থেকে একজন উপদেষ্টা ওই বিচারপতির শরণাপন্ন হয়েছিলেন। তাঁরা ঘণ্টাব্যাপী মিটিং করেন। তবে ওই বিচারপতি রাজি হননি। উনি সাফ বলে দিয়েছিলেন, ‘উনি রাষ্ট্রপতি, উনি সবার ঊর্ধ্বে সাংবিধানিকভাবে, সবকিছুর ওপরে। ওই জায়গায় আমি অসাংবিধানিকভাবে বসতে পারি না।’ ওই বিচারপতির দৃঢ়তার কারণে শেষ পর্যন্ত সরকারের ওই উদ্যোগও ব্যর্থ হয়।

    শেয়ার করুন: