নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে নেতাকর্মীদের সক্রিয় হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি
দলীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা হবে আরও শক্তিশালী।
আজ শনিবার সকালে ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় এমন কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানালেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে সবাইকে। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ মানুষের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে জনগণের সমস্যার প্রতিও গুরুত্ব দিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনী ইশতেহার শুধু একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, এটি জনগণের সঙ্গে সরকারের দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। তাই প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দলীয় নেতাকর্মীরা জনগণের পাশে থেকে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম সফল করতে সহযোগিতা করবেন।
'গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মাঠে ছিলেন আপনারা। আমি বলেছিলাম নির্বাচন কঠিন হবে। আপনারা প্রত্যেকেই পরতে পরতে সেটা অনুভব করেছেন। মানুষ আমাদের দলের পক্ষে, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে সমর্থন দিয়েছে', যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
নির্বাচনের আগে দেওয়া ইশতেহার এখন জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমানের ভাষ্য, 'নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত আমাদের দেওয়া ইশতেহার ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ম্যানিফেস্টো। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরে বিশেষ করে আমরা সরকার গঠন করার পরে এই ইশতেহারটি আমাদের সরকারের তথা বাংলাদেশের জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে।’
'কারণ ভোট দেওয়া দেশের ৫২ শতাংশ মানুষ মূলত আমাদের এই ম্যানিফেস্টোর পক্ষেই রায় দিয়েছে। কাজেই এই ম্যানিফেস্টোতে যা যা বলেছিলাম আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করতে হবে।'
প্রধানমন্ত্রী আরও জানালেন, 'নির্বাচনের আগে আমরা মানুষকে বলেছিলাম যে আমরা সুশাসন দেব। আমরা এমন একটি দেশ তৈরি করতে চাই যেখানে একটি সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ পাবে শিক্ষার্থীরা। নারী পুরুষ শিশু সকলে নিরাপদে চলতে পারবে রাস্তায়।'
তিনি যোগ করেন, আমরা যখন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিলাম তখন বলেছিলাম আমাদের ওপরে যে রকম অত্যাচার নির্যাতন হচ্ছে, গুম খুনের শিকার হতে হচ্ছে তাতে আমরা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা চাই দেশে এমন একটি রাজনৈতিক পরিস্থিতি হোক যেখানে আমরা বিতর্ক করব, স্বাধীনভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করব।
এর আগে সকাল পৌনে ১১টায় ফার্মগেইটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট(কেআইবি) মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভা শুরু হয়। দিনব্যাপী রুদ্ধদ্বার এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও এজেডএম জাহিদ হোসেনও উপস্থিত রয়েছেন।



